
হুমায়ন আকাশ নোয়াখালী প্রতিনিধি :
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থান ২০২৪ এর স্মারক ‘জুলাই ঘোষণা পত্রে’ ২৮ টি ধারার মধ্যে ৯টি ধারায় কিছু শব্দ ও অনুচ্ছেদ পরিবর্তন- পরিবর্ধন এবং তা বাস্তবায়নের দাবিতে সৃজনশীল লেখক ঐক্য ফোরাম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ প্রকাশ স্বাধীন এর উদ্যোগে এবং ফোরামের সদস্য ও সাংবাদিকদের আয়োজনে গত ০৯ অক্টোবর রোজ বৃহস্পতিবার নোয়াখালী প্রেসক্লাব হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশক ও সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম. বি আলম, দৈনিক চলতি ধারা; এডভোকেট হুমায়ুন কবির, দৈনিক জন জমিন; আকাশ মোঃ জসীম, দৈনিক দিশারী; মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক নয়া পৃথিবী প্রমূখ। সাংবাদিগণের মধ্যে মোঃ আব্দুর রহিম, জেলা প্রতিনিধি এস. এ টিভি ; মোঃ পলাশ, জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক মুক্তির লড়াই;
দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি; ঈমাম উদ্দিন আজাদ, জেলা প্রতিনিধি দৈনিক আমার সংবাদ; এ আর আজাদ সোহেল এবং নাফিজ ইকবাল, দৈনিক সংগ্রাম, সদর প্রতিনিধি প্রমূখসহ অত্র ফোরামের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের সর্বোচ্চ ‘‘নোবেল পুরষ্কার’’ অর্জনকারী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউনুস প্রতি সম্মান প্রদর্শন, শহীদদের আত্মার শান্তিময় এবং ভবিষ্যতে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রথমে: ১ নং ধারায় শুধুমাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের সাল, মাস ও তারিখ উল্লেখে বৈষম্য হয়েছে। উপনিবেশবিরোধী লড়াই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একেক সময়ে শুরু হয়। ফলে ” ভারত বর্ষ তথা বাংলার ভূখণ্ডে উপনিবেশীক শাসন শুরু ১৭৫৭ সালর ২৩শে জুন ও পতন ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ” অনুচ্ছেদ এবং “আজাদী” শব্দটি যুক্ত করা। দ্বিতীয়: ৬ নং ধারায় ১/১১ সরকার কাদের কারণে হয় উল্লেখ না থাকায় ইতিহাসের অস্পষ্টতাজনিত বৈষম্য নিরসনে “শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ২০০৬ সালে ২৮ শে অক্টোবর প্রকাশ্যে লগি-বইঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে হত্যার তাণ্ডবের কারণে ২০০৭ সালে ১/১১ সরকার গঠিত হয়ে ৩০/১২/২০০৮ পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে ২২/০১/২০০৮ ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে আওয়ামীলীগকে ভোট পাইয়ে দেওয়াতে” অনুচ্ছেদ লিখা।
তৃতীয়: ১১ নং ধারায় নিরন্তরভাবে
ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে প্রকৃত সংগ্রামকারী ও নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর নাম না থাকায় ‘‘রাজনৈতিক দল ও তাঁদের অঙ্গ সংগঠন, আলেম সমাজ, সংবাদ পত্রের সাংবাদিক,সম্পাদক, কলাম লেখক,কৃষক ও শ্রমিক ” অনুচ্ছেদটি লিখা। চতুর্থ : ১৪ নং ধারায় আওয়ামীর ভিন্নধর্মী জনগোষ্ঠী নির্যাতিত এবং প্রতিরোধের পন্থা অবলম্বন স্থলে “ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দল ও তাঁদের ছাত্র সংগঠন নেতা-কর্মী, পত্রিকার সাংবাদিক, সম্পাদক, কলাম লেখক” অনুচ্ছেদটি উল্লেখ। পঞ্চম : ১৫ নং ধারায় ‘‘দীর্ঘদিন’’ স্থলে ‘‘ দীর্ঘ ১৬ বছর ৭ মাস ’’ অনুচ্ছেদ উল্লেখ। অন্যদিকে, মানুষ ‘‘তৈরি’’ করতে পারে, ‘‘সৃষ্টি’’ করতে পারে না বিধায় মহান আল্লাহর নামের সাথে ‘‘সৃষ্টি’’ শব্দ ব্যবহার যোক্তিক শুদ্ধ । ‘‘সৃষ্টি’’ শব্দের পরিবর্তে ‘‘পরিবেশ তৈরি’’ অনুচ্ছেদ লেখা। ষষ্ঠ: ১৭ নং ধারায় চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানে যোগদানকারী প্রকৃত জনগোষ্টি নাম উল্লেখ না থাকায় “যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র—জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনুষ্যবর্জিত বর্বরতার সংবাদ পত্রের সাংবাদিক ও লেখক তাঁদের সকল সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রচারের কারণে দেশের রাজনৈতিক দল ও তাঁদের অঙ্গ সংগঠন, সাধারণ ব্যবসায়ী, সাধারণ শিক্ষার ধারার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ, কারিগরি, টেক্সটাইল ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়; মাদ্রাসা ধারার কওমি ও আলিয়া, আইন বিভাগ, ডাক্তার, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, আলেম সমাজ, কৃষক ও শ্রমিক” অনুচ্ছেদ লিখার দাবি। এধারায় শহীদের সংখ্যা “প্রায় এক হাজার’’ ভুল লিখায় ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই মসজিদ ভিত্তিক ঈমামদের মাধ্যমে মুসল্লীদের তথ্য ভিত্তিতে শহীদদের সঠিক সংখ্যার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করার প্রস্তাব করছে। সপ্তম: ২৩ নং ধারায় আওয়ামী কর্তৃক সকল অপরাধে বিচারের অভিপ্রায় করলেও দুঃখজন আওয়ামী সরকারের জঘন্য অপরাধগুলো উল্লেখ নেই বলে “সাংবাদিক হত্যা, ২৫ ও ২৬ /০২/২০০৯ সালে পিলখানায় হত্যাকাণ্ড এবং ৫ ও ৬/০৫/২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধের দ্রুত উপযুক্ত বিচার, পাচারকৃত অর্থ ফেরৎ এবং ভবিষ্যতে অর্থ পাচার রোধসহ বেকার সমস্যার সমাধানে দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করার প্রস্তাব এবং “গণ-অভ্যুত্থানকালীন” না হয়ে “গণঅভ্যুত্থানকালীন” শুদ্ধ। যা একটি তৎপুরুষ সমাস। এখানে “কালীন” যুক্ত হওয়াতে মাঝখানে হাইফেন (–) বসে না বলে জানানো হয়। অষ্টম: ২৪ নং ধারায় শহীদদের শুধুমাত্র জাতীয় বীরের মর্যাদা ও আইনী সুরক্ষা কথা বলছে। লেখক ঐক্য ফোরাম বলে অত্র ধারায় ঘোষণা’’ শব্দ ব্যবহারে শহীদদের অপমান করা হয়েছে। “ঘোষণা’’ শব্দটির পরিবর্তে ‘‘স্বীকৃতি’’ শব্দ ব্যবহার। কারণ ‘‘স্বীকৃতি’’ মানে হল কোনো কিছু সত্য বা বৈধ হিসেবে মেনে নেয়া। এধারায় শহীদদের মা—বাবা, স্ত্রী—সন্তানদের ও চরম আহতদের আজীবন ভাতা প্রদানসহ ৫ টি মৌলিক চাহিদা পূরণের মধ্যদিয়ে পুর্নবাসন এবং দেশের বেকার সমস্যার সমাধানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করার দাবি করা হয় এবং নবম: ২৬ নং ধারায় মূলভাব বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষণে শুধুমাত্র “উন্নয়ন” এর কৌশলের কথা বলায়
আপনার মতামত লিখুন :