উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী :বাংলাদেশে ছাত্র- জনতার এ বিজয়কে আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু এর জন্য বহু মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেক পঙ্গুত্ববরণ। আমাদের সব আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো একটি গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া। আজকের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। মূল চাহিদা হলো সংস্কারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। জনসম্মতির বাস্তব রূপ হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা । তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্যও কল্যাণকর এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও কল্যাণকর, দেশের জন্যও কল্যাণকর।
গন অভ্যুত্থান কোনো কারণে যেন ব্যর্থ হয়ে না যায়। শহীদদের বিনিময়ে আজ যে মুক্ত বাতাস, তা যাতে জনগণ উপভোগ করতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজেই এ অর্জন ধরে রাখতে ঐক্য প্রয়োজন। বিগত সরকার হয়তো পালিয়ে গেছে। তাদের প্রেতাত্মারা কিন্তু সমাজের রন্দ্রে রন্ধে রয়ে গেছে। ষড়যন্ত্র করে রাষ্ট্রের বিশৃঙ্খলা তৈরি করার কাজ তারা করছে এবং তা অব্যাহতভাবে এসব দুরাচারী চালিয়ে যাবে। তাই গণতন্ত্রকামী প্রত্যেক মানুষকে সতর্কতার সাথে সামনে এগোতে হবে। কোনোভাবে ঐক্য বিনষ্ট করা যাবে না। তা না হলে এ আন্দোলন বৃথা যাবে ।
জনকল্যাণকর রাষ্ট্র কায়েম করা। এ ক্ষেত্রে জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার যৌক্তিক সময়ে উপহার দেয়া। বর্তমান সব সংস্কার একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তবেই সার্থক হবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান।
এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেই কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনটি কখন হবে? নির্বাচন যখন হোক; অত্যাবশক হয়ে পড়েছে রাষ্ট্র সংস্কার। কেউ বলছেন, সংস্কার আগে নির্বাচন পরে। আবার কেউ বলছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার আসার পরে সংস্কার করা দরকার। তাদের যুক্তি, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে জনগণের সম্মতির ওপর ভিত্তি করে সংস্কার করলে তা বেশি কার্যকর হবে। তবে কথা হলো- নির্বাচন যখনই হোক না কেন, সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বিগত সরকার দীর্ঘায়িত করতে রাষ্ট্রের জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছেন। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সব
প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গাটা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী পাটাতনে দাঁড়াতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন।
ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ছা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগপর্যন্ত গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্র শাসনের ভার নিয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে দেশের প্রথিতযশা কয়েকজন। আগামীতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটাবে।
৫৩ বছর আগে যে কারণে দেশ স্বাধীন হয়েছিল; সেভাবে রাষ্ট্র সাজাতে ব্যর্থ হয়েছে আমাদের নেতৃত্ব। বাকশালি শাসন. গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একনায়কতন্ত্রের বীজ তখন রোপণ করা হয়। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতনের পরও আমাদের নেতৃত্ব দেশ গঠনে ব্যর্থতার পরিচয়
দিয়েছেন। বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে শাসন রাষ্ট্রকে খাদে ফেলে দিয়েছে। যার কারণে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় স্বাধীনতা জরুরি হয়ে পড়ে। এর জন্য বিগত ১৬ বছরে সরকারবিরোধী সব দলের নেতারা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সাফল্য আসছিল না। অবশেষে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কাছে পরাভূত হয়ে হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হন।
নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বৈরতন্ত্র হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্রজনতার সম্মিলিত গণ- অভ্যুত্থানের মূল সুর একই জনবান্ধব গণতান্ত্রিক একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্র ও সংবিধানের এমন কিছু সংস্কার প্রয়োজন, যেখানে জনসম্মতি জরুরি।
রাষ্ট্রকাঠামোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন জবাবদিহির মধ্যে থাকে। ওই ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে সেই অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করতে হবে। অতীতের সরকারের যে কায়দায় শাস হয়ে উঠেছিলেন কোনো শাসক যেন আর সে রকম না হতে পারেন তার জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তন জরুরি হলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তাই করা উচিত। দেশের মানুষ আর কোনো শাসক বা অন্যায় বরদাশত করবে না।
শেখ হাসিনার অন্যায় হয়ে উঠতে ধরালো অস্ত্র ছিল স্বাধীনতার চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি সেজে অন্যদের দমনে রাজাকার তকমা দিয়ে কঠোরভাবে বিরোধী মতকে দমন করা হয়েছে। এমনও নজির রয়েছে, আওয়ামী লীগ করার সুবাদে স্বাধীনতার সময় যার বয়স ১০ বছর ছিল নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪নং বার গাঁও ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক নামে. স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যার ১০বছর বয়স ছিল তাকেও মুক্তিযোদ্ধার খেতাব দেয়া হয়েছে।
বিগত দিনে আওয়ামী লীগ কর্মকাণ্ডে নিমজ্জিত হয়ে অন্যকে ঘায়েল করতে নানা শব্দ ব্যবহার করত। যেমন- জামায়াতকে বলা হতো রাজাকারের দল, বিএনপিকে বলা হতো খুনি এবং দুর্নীতিবাজদের দল। প্রকৃত অর্থে গুম-খুনের রাজনীতির সাথে আওয়ামী লীগ জড়িত। আর তাদের দুর্নীতির মাত্রা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। পতিত সরকার নিজেদের সব অপকর্ম জনচক্ষুর অন্তরালে রাখতে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যদের রাজাকার বানিয়ে হেনস্তা করার পথ বেছে নেয়।
এ ক্ষেত্রে স্বাধীনতাবিরোধী বানানোর মেশিন এতটা সচল ছিল যে, যাদের জন্ম স্বাধীনতার ৩০ বছর পরে, অন্যায় পন্থায় চাকরি চাওয়ার অপরাধে তাদেরও রাজাকারের অংশীজন বানিয়ে ফেলে। তাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে এত দিন রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনিব্যবস্থা নিতে হবে। এমনভাবে আইন সংস্কার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করতে সাহস না পান। প্রকৃত বাস্তবতায় মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। এর মর্যাদা সমুন্নত রাখা আমাদের দায়িত্ব।
, গণ-অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো একটি গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া। আজকের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণ- অভ্যুত্থানের ফসল। মূল চাহিদা হলো সংস্কারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক জনকল্যাণকর রাষ্ট্র কায়েম করা। এ ক্ষেত্রে জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার যৌক্তিক সময়ে উপহার দেয়া। বর্তমান সব সংস্কার একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তবেই সার্থক হবে ছাত্র-জনতার গণ- অভ্যুত্থান। তাই গ্রহণযোগ্য
সময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, যাতে জনগণ বিগত ১৬ বছরের ভোট না দেয়ার ক্ষুধা মেটাতে পারে।রাজনীতি মানে ক্ষমতা অর্জন,তবে আপনার ক্ষমতা না থাকলে রাজনীতি ধারে কাছেও যাবেন না"তবে চারিপাশের আবহাওয়া,দৈনন্দিন গতিবিধি দেখে আমার গোবরপূর্ন মস্তিষ্ক দিয়ে রাজনীতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছি।
আমি বিখ্যাত নই,তাই আমার লিখাগুলো বিখ্যাত মনীষীর ছায়া মাড়ানোর দুঃসাহস দেখাতে ভয়ে চুপসে যায়!। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুক এবং সুস্থ জীবন ধারণের তৌফিক দান করেন