গোলজার হানিফ, সোনাইমুড়ী : ঘুষের টাকা ফেরত পেতে সোনাইমুড়ী উপজেলার ভূমি অফিস ভুক্তভোগীদের অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে একে একে এসে ভুক্তভোগীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।জানা যায়, উপজেলার বজরা ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার কফিল উদ্দিনের বিচারের দাবি ও ঘুষের টাকা টাকা ফেরত পেতে ভূমি অফিস অবস্থান করেন ভুক্তভোগীরা। চলতি মাসে বজরা ভূমি অফিস থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বদলি করা হয় কফিল উদ্দিনকে। অসংখ্য সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে নানা কাজের অযুহাতে টাকা নিয়েছেন তিনি। তবে টাকা নিয়েও কাজ করেননি। সেবা গ্রহীতার কাগজও ফেরত দেননি। এখন টাকা ফেরত না দিয়ে ও কাজ না করে অন্যত্র বদলি হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম জানান, ২৫ হাজার টাকা জমাখারিজের জন্য ৫ মাস আগে তহসিলদার কফিল উদ্দিনকে দিয়েছেন তিনি। এখন কাগজও ফেরত দেননি, কাজও করে দেননি। এখন সে বদলি হয়ে চলে যাচ্ছেন।ভুক্তভোগী ঘোষকামতা এলাকার আব্বাছ উদ্দিন মিয়াজি জানান, ৮৮ শতক জমি জমা-খারিজের জন্য ৬৪ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। গত জুন মাসে টাকা দিলেও কাজ করেনি কফিল উদ্দিন। বর্তমানে তিনি বদলি হয়ে হাতিয়া চলে যাচ্ছেন।
ঘোষকামতা গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী জাহিরুল ইসলাম জানান, ৬ ডিসিম জমি জমা-খারিজের জন্য গত ৬ মাস পূর্বে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন সহকারী তহসিলদারকে। তবে সেই কাজও হয়নি আবার টাকাও ফেরত পাননি তিনি।
শুধু জহিরুল, আব্বাস কিংবা নুরুল ইসলাম নয় সোনাইমুড়ী উপজেলার প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়েছেন অভিযুক্ত সহকারী তহসিলদার কফিল উদ্দিন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সোনাইমুড়ী উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা দ্বীন আল জান্নাতের কাছে ২০ দিন পূর্বে কফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন তারা। তবে কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এখন কফিল উদ্দিন বদলি হয়ে সোনাইমুড়ী থেকে চলে যাচ্ছেন।জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ঘুষের টাকা না দিয়ে পালালেন তহসিলদার শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ১৩ নভেম্বর জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়ন
ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার কফিল উদ্দিনকে একই জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাতিয়া উপজেলা বদলি করা হয়।
সোনাইমুড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আলম জান্নাত বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনিয়ম সম্পর্কিত লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এসিল্যান্ড কে বলেছেন।