নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : রাসেদ বিল্লাহ চিশতী জেলাতে মাজারে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আসামীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে মামলার বাদী মাজারের প্রধান মোতাওয়াল্লী মো. জামাল উদ্দিন মাইজভান্ডারি। মামলা তুলে নিতে সরাসরি ও মোবাইলের মাধ্যমে আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে মামলার আসামিরা। (২০ ফেব্রুয়ারী) বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ৯নং কালাদরাপ ইউনিয়নের মুন্সিতালুক আইউব আলী দরবেশের মাজার তিন দিন ব্যাপী বাৎসরিক ওরস শরীফ আয়োজনের প্রস্তুতিকালে মাজারের পাশে সোলেমান মার্কেট এলাকায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে একদল মাজার বিদ্বেষী কয়েকশত লোকজন জোড় করে হাতে চাপাতি, চাইনেজ কুড়াল, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ককটেল ফুটিয়ে মাজারে অতর্কিত হামলা ভাংচুর চালিয়ে ওরসের প্যান্ডেল, স্টেজ, পুরো মাজার ও আস্তানা ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মাজারে হামলার ঘটনায় মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন মাইজভান্ডারি বাদী হয়ে গত (২৩ ফেব্রুয়ারী) রবিবার ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ৪৪ জনকে উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০/২০০ জনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারী) বুধবার এ মামলার আসামিরা জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা হয়ে জামিন আবেদন করে। এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারিক আদালত ৪৪ জন আসামির মধ্যে ৩৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং বাকি ৭ আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আবু নোমান (৫৫), দেলোয়ার হোসেন (৪৮), মোজাম্মেল হোসেন (৪০), আবুল কালাম মৌলবি (৪৫), তারেক (২৫), হাম্মাদুর রহমান (২৮) ও শাহজাহান (২৮) কে কালাদরাপ ইউনিয়নের মুন্সিতালুক আইউব আলী দরবেশের মাজারে হামলা ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় এ ৭ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদ হোসেন চিহ্নিত আসামিদের জামিন নাকচ করে দিয়ে তাদেরকে তাদেরকে কারাগারে প্রেরন করেন।
অভিযুক্ত ৭ আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে আদালতে পাঠানোর পূর্বে ও পরবর্তীতে জামিন প্রাপ্ত আসামিরা ফেইসবুক ও ফোন কলে মামলার বাদিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। মামলার বাদি মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন মাইজভান্ডারি অভিযোগ করে বলেন, মামলার ৮ নং অভিযুক্ত আসামি সোসাল মিডিয়াতে পোস্ট করে আমাকে মারধর, গ্রাম ছাড়া করে দেয়ার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। বিষটি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তথ্যসুত্রে জানা যায়, ৮নং আসামি মো. আরাফাত হোসেন (৩৫) এর পিতা মুন্সিতালুক ২নং ওয়ার্ড সাবেক মেম্বার আবুল হাসেমের বিরুদ্ধেও ১/১১ কেয়ারটেকার সরকারের আমলে নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
মামলার বাদি সুত্রে জানা যায়, ৮নং আসামি মো. আরাফাত হোসেন (৩৫)'র পিতা মুন্সিতালুক ২নং ওয়ার্ড সাবেক মেম্বার আবুল হাসেম সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল্লার আমলে সরকারি ত্রান তহবিলের হতদরিদ্রের জন্য বরাদ্দকৃত টিন বিলি না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। চুরিকৃত টিন পানি ভর্তি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, মুন্সিতালুক আইউব আলী দরবেশের মাজারে হামলা ভাংচুরের ঘটনায় ৪৪ জনকে উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০/২০০ জনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। শুনানি শেষে বিচারিক আদালত ৪৪ জন আসামির মধ্যে ৭ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে আদালতে প্রেরণ করে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কেউ উশৃংখলতা করতে চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।