উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : হাতিয়া কমিউনিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী আমিরুল মোমিন। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের কারণে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. নূরুন্নবী আলম হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠাতার অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদের একচ্ছত্র দখলদারিত্বে কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক ও কর্মচারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন-প্রভাষক ফাহি উদ্দিন, নুরুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, নাছরিন আক্তার, প্রদর্শক নজরুল ইসলাম, এমএলএসএস আফছার উদ্দিন, এহসান উদ্দিন ও অরবিন্দু পাল।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ বিভিন্ন সীম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে উপবৃত্তির টাকার জন্য শিক্ষার্থীদের জাহাজমারা ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায়, যেখানে অধ্যক্ষ নিজে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, জোরপূর্বক হিসাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লা বোর্ড থেকে কলেজের জন্য পাঠানো কম্পিউটার কেনার চেক অধ্যক্ষ কলেজের নামে নয়, বরং নিজের স্ত্রীসহ একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে উঠিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। কলেজে ভর্তি ফি ও বোর্ড ফেরত আবেদন ফি’র টাকাও একই পদ্ধতিতে আত্মসাৎ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলেজ প্রাঙ্গণের ৫০ হাজার টাকার গাছ এবং উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া ১২টি গাছ-মোট আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পদ-কলেজের অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া ভর্তি, ফরম পূরণ, পরীক্ষা ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।
কারিগরি বিভাগের ২০২৪ সালের পরীক্ষার্থী সামছুদ্দিন শুভ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আফছানা এবং ২০২২ সালের শিক্ষার্থী খালেদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
রাবেয়া বেগম নামের এক শিক্ষার্থীর পিতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি দুই বছর ধরে ধারদেনা করে মেয়েকে কলেজে পড়াচ্ছি। কিন্তু ১৪ হাজার টাকা ফরম ফিলাপের জন্য অধ্যক্ষ অনড় থাকায় মেয়ের ফরম ফিলাপ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “বোর্ড থেকে একটি তদন্তের নির্দেশনা পেয়েছি। ইতোমধ্যে স্থানীয় কিছু শিক্ষক ও প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”