নিউজ ডেস্ক : নোয়াখালীতে মাদ্রাসার ভুয়া সেক্রেটারি সেজে লক্ষ্মীপুরের ৪৫ নং কলাকোপা মৌজার ১৮ ডিসিমেল সম্পত্তি আত্মসাধের অভিযোগ উঠেছে সুধারাম থানার আন্ডারচর ইউনিয়নের মনির আহম্মদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত জোবায়ের হোসেন লক্ষ্মীপুর রামগতি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণীতে জানাযায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার হোসাইন আহমেদের পুত্র জুবায়ের হোসেন ৪৫ নং চর কলাকোপা মৌজার ৪ নং খতিয়ানের ৩১২ দাগে ৪ শতক,৩৪০ দাগে ৬শতক ৩৪৫ দাগে ৫০ শতক সহ মোট ৬০ শতক জমি নোয়াখালীর আন্ডারচর ফোরকানিয়া মাদ্রাসার থেকে গত ২৬/৪/২০০১ ইং তারিখে ২৮৩৩ কবলা মুলে খরিদ করেন।
ঐ সম্পত্তি থেকে ৩২ শতক সম্পত্তি তিনি জৈনক ইসমাইলের এর নিকট বিক্রি করে দেন। বাকি ১৮ শতক সম্পত্তি মালিক থেকে নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর সাথে ভাড়ায় চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু নাভানা লিঃ চুক্তি ভঙ্গ করে চলে যান। তিনি তার মালিকীয় সম্পত্তিতে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের বাধা দেন।
তখন তিনি জানতে পারেন আন্ডাচর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মৃত নুরুল হকের ছেলে মনির আহম্মদ ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পড়াগাছা ইউনিয়নে চর কলাকোপার গ্রামের ইসমাইল জাগিদারের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা আবু তাহের মাঝি এ দুজন অপরাপর যোগ সাজসে পক্ষ প্রতিপক্ষ সেজে মামলা ও সোলেনামা করে তার সম্পত্তি জোরপুর্বক দখল করে নেন। তিনি আরো জানতে পারেন মনির আহম্মদ মাদ্রাসার ভুয়া সেক্রেটারী ও দাতা সেজে আবু তাহেরের কাছে আমার ক্রয়কৃত ১৮ শতক জমি বিক্রি করেন। এটা সম্পুর্ণ প্রতারনা এবং জাল জালিয়াতি।
মাদ্রাসার সাবেক সেক্রেটারি নাদু মিয়ার বড় ছেলে মোঃ ইউছুফ জানান মনির আহম্মদ আমাদের মসজিদ বা মাদ্রাসার কেউ না এবং সমাজের কেউ না। তিনি কখোনো মাদ্রাসার সেক্রেটারি ছিলেন না। জায়গা বিক্রি করেছেন আমার বাবা।
একই কথা বলেন ফোরকানিয়া মাদ্রাসা মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান। তার জানামতে মনির আহম্মদ কোন দিন মসজিদ বা মাদ্রাসার কেউ ছিলেন না। আমরা এধরনের প্রতারনার বিচার চাই।
স্থানীয়রা জানান, মনির আহম্মদ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা থেকে দেড় দুই কিলোমিটার দূরে থাকেন। তিনি মাদ্রাসা কেউ না এ সমাজের ও কেউ না। উনি ভিন্ন সমাজের।
আন্ডারচর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও স্থানীয় বাসিন্দা এনায়েত মিয়া জানান, মনির আহম্মদ একজন প্রতারক। তিনি মিথ্যাচারের মাধ্যমে ভুয়া দলিল করেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হউক।
এছাড়াও মনির আহম্মদ নিজেকে ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সেক্রেটারি বানিয়ে ভুয়া সিল তৈরি করে ভুয়া রেজুলেশন করেন যা ঐ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অবগত হন। তারা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান যে মনির আহম্মদ ভুয়া সেক্রেটারি। তারা অন্তভর্তি সরকারের কাছে মনিরকে আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়ার জোরদাবী জানান।
এ বিষয়ে জোবায়ের হোসেন বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। তিনি বিচারক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ন্যায় বিচার ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
এদিকে জানতে চাইলে মনির আহম্মদ মুঠোফোনে জানান, তিনি মাদ্রাসার সেক্রেটারী এবং তিনি তার বাবার সম্পত্তি বিক্রি করেছেন।