সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল নিঝুম দ্বীপে প্রবল জোয়ার ও টানা বৃষ্টির কারণে দ্বীপের একমাত্র প্রধান সড়কটি ধসে পড়েছে। ফলে পুরো দ্বীপ এখন কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কপথে চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ভরসা এখন শুধুমাত্র নৌকা।
গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ার দ্বীপের প্রতিটি এলাকা প্লাবিত করে। এর ফলে বন্দরটিলা বাজার, ছোয়াখালীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর রাস্তা স্রোতের তোড়ে ভেঙে গেছে।
দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবীসহ হাজারো মানুষ। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক ভেঙে এখন অনেক জায়গা খালে পরিণত হয়েছে,” বলেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মো. বেলাল হোসেন। “রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। অবিলম্বে একটি টেকসই সড়ক দরকার।
দ্বীপের প্রধান এই সড়কটি ২০১১ সালে 'আইলা পুনর্বাসন প্রকল্প'-এর আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল। ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ আরসিসি (RCC) ঢালাই সড়কটি নির্মাণের পর গত ১৪ বছরে একবারও সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
দ্বীপের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কেফায়েত উদ্দিন বলেন, ২০১১ সালের পর থেকে রাস্তাটি আর মেরামত করা হয়নি। প্রতিবার জলোচ্ছ্বাসে কোনো না কোনো অংশ ভেঙে যাচ্ছে। সারা দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু নিঝুম দ্বীপ যেন অবহেলিত।
একই হতাশা ঝরে পড়ে দ্বীপের শিক্ষার্থী আল আমিনের কণ্ঠেও তিনি বলেন, স্কুলে যেতে পারছি না। কয়েকদিন আগে একজন ইউপি সদস্যের ছেলে রাস্তায় পড়ে মারা গেছে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তাটি ঠিক করা হোক।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। হাতিয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় কেবল আরসিসি সড়কই টিকে থাকতে পারে। নতুন ডিজাইন ও প্রশস্তকরণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ডিপিপি পাস হয়েছে, শিগগিরই ঢাকার প্রকৌশলীরা এসে কাজ শুরু করবেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, “সড়কের বহু জায়গা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং জরুরি পদক্ষেপের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, অবিলম্বে সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং টেকসই বেড়িবাঁধ স্থাপন না করলে নিঝুম দ্বীপের জীবনব্যবস্থা চরম হুমকিতে পড়বে।একটি মাত্র সড়কের উপর নির্ভর করে থাকা নিঝুম দ্বীপবাসীর জীবন এখন পানির ধারা ও প্রকৃতির দয়ায় ঝুলে আছে। জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া এ দ্বীপের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।