মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : জেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ কেন্দ্র চৌমুহনী এলাকায় দিন দিন যানজটের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। ফুটপাত দখল, অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনার অদক্ষতায় ঘন্টার পর ঘন্টা পথে আটকে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে। এ অবস্থায় চৌমুহনীর বাসিন্দা, পথচারী এবং ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ফুটপাত দখল হাঁটার জায়গা নেই চৌমুহনীর প্রধান সড়কগুলোর প্রায় সবকটির ফুটপাত দখল করে নিয়েছে দোকানদার, ফেরিওয়ালা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হয়, যা যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন ফুটপাতে হাঁটার জায়গা নেই, রাস্তায় গাড়ি আর রিকশার ভিড়। স্কুলে যাওয়ার পথে প্রতিদিনই আমার সন্তানকে ঝুঁকি নিয়ে হাঁটতে হয়।
অটোরিকশা চৌমুহনীর যানজটের একটি বড় কারণ। যত্রতত্র যাত্রী নামানো-তোলা, রাস্তার মাঝখানে পার্কিং এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে রাস্তা অচল হয়ে পড়ে। ট্রাফিক পুলিশের অভিযোগ, অটোরিকশা চালকরা প্রায়ই নির্দেশনা মানতে চান না, যা পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।
যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ জরুরি যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ছাত্র-শিক্ষক, অফিসগামী মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে গিয়ে হারাচ্ছে মূল্যবান সময়।
স্থানীয়রা জানান, বারবার অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত মুক্তকরণ এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি, ফুটপাত মুক্তকরণ এবং অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে চৌমুহনীবাসী।
চৌমুহনীর যানজট কেবল যাতায়াতের সমস্যা নয়, এটি এখন অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জনস্বাস্থ্যের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপই কেবল এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে চৌমুহনীর যানজট নিরসনে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলবে।