হুমায়ন আকাশ,নোয়াখালী প্রতিনিধি।
পেশায় তিনি একজন সরকারি কলেজের শিক্ষক। পরোপকারী, সদাহাস্যোজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত মানুষটি নিজ গ্রামের মানুষের কাছে ‘সাজু’ নামেই পরিচিত। শ্রেণিকক্ষে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও জনপ্রিয় এক শিক্ষক ‘সাজু স্যার’। কিন্তু সবার প্রিয় সেই অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম সাজু এখন প্যানক্রিয়াটিক (অগ্ন্যাশয়) ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। মরণব্যাধি এই রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচের কাছে আজ অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে পরোপকারী এই মানুষটি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাকে বাঁচাতে প্রয়োজন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা। সফিকুল ইসলাম সাজু ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। দুই সন্তানের জনক সাজুর সাজানো গোছানো জীবনটা বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তিনি অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত।চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাজুর ক্যান্সার চতুর্থ স্টেজে রয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে তাকে কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত ও আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ভারত অথবা থাইল্যান্ডে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সেখানে এই চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ৬০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু একজন সাধারণ কলেজ শিক্ষকের পক্ষে একা এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে শিক্ষক সফিকুল ইসলাম সাজু ও তার পরিবার চিকিৎসার সহায়তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ দেশ-বিদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সবার সম্মিলিত একটু সহযোগিতাই পারে এই শিক্ষককে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে; যার মাধ্যমে আবারও হাসি ফুটবে তার অবুঝ দুটি সন্তান, স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের মুখে শিক্ষক সাজুকে দেখতে জান কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক মুস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।