হুমায়ন আকাশ নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিড়ি ইউনিয়নের নজির মিস্ত্রি খেওয়া ব্রিজ থেকে গাজীর খেওয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের চরম বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা এই জরাজীর্ণ সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার কয়েক হাজার পরিবারের মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা ও অবহেলার প্রতিবাদে এবং সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে কর্দমাক্ত রাস্তায় ধানগাছ রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ২৫ বছরের অবহেলা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধানসিড়ি ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি। কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সড়কটিতে কোনো সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়কটি যেন একটি ডোবায় পরিণত হয়। কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। ধানগাছ রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ আজ (বুধবার) সকালে স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সড়কের বেহাল দশার প্রতিবাদে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেন। তারা সড়কের জমে থাকা কাদার মধ্যে সারিবদ্ধভাবে ধানগাছ রোপণ করেন। বিক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা মালদ্বীপ প্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক আবু আহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন:
দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আমরা এই এলাকার মানুষ চরম অবহেলিত। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় আসেন, বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু ভোট চলে গেলে আমাদের খোঁজ আর কেউ রাখে না। এই রাস্তা দিয়ে কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। আমাদের বাধ্য হয়েই আজ রাস্তায় ধানগাছ রোপণ করে প্রতিবাদ জানাতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার ফলে দিন দিন এই এলাকার মানুষের ক্ষোভ ও দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ৩ কিলোমিটার সড়কটি পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কার করে হাজার হাজার মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।