হুমায়ন আকাশ, বাংলা টাইমস-ই
নোয়াখালীর ৭ নং ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক (৪ নং ওয়ার্ড) এলাকায় জমিতে চাষ দেওয়ার সময় এক কৃষক পরিবারের ওপর মধ্যযুগীয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধারালো ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চালানো এই হামলায় একই পরিবারের অন্তত ৮ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, যার মধ্যে ২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) রাখা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষক আমানুল্লাহ হাওলাদের মৃ-ত্যু।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগষ্ট সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় আমানউল্লাহ হাওলাদার নিজের জমিতে চাষ দিতে গেলে এই হামলার সূচনা হয়। পূর্বে পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় একরাম মেম্বার ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় ধারালো দা, ছুরি ও লোহার রড নিয়ে হঠাৎ তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই হামলায় সরাসরি ইন্ধন ও অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আহসানউল্ল্যাহ ট্রেইলারের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি কোপ ও রডের আঘাতে আমানউল্লাহ হাওলাদারের পরিবারের ৮ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী মাইজদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৪ জনের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়। ঢামেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ২ জনের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কাজনক ব্যক্তির মৃ-ত্যু,জীবন রক্ষার সম্ভাবনা অপরজনের অবস্থা খুবই ক্ষীণ। বাকি সদস্যরা বর্তমানে মাইজদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী আমানউল্ল্যাহ হাওলাদারের ছেলে শাহাদাত বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ২ নং আসামি আহসানউল্ল্যাহকে গ্রেফতার করেছে।সুধারাম মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ইতিমধ্যেই ২ নং আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি মূল অভিযুক্ত একরাম মেম্বারসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।