পাবলিক পেজে অপমান নয়: অন্যায়কারীর ভুলের সংশোধনে সামাজিক উদ্যোগ ও সহমর্মিতার আহ্বান- আবু আহাম্মদ সেলিম মিয়া মালদ্বীপ প্রবাসী
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া বা পাবলিক পেজে কাউকে প্রকাশ্য অপমানের বদলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বুঝিয়ে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজচিন্তক ও সচেতন মহল। কারো অন্যায় বা ভুল দেখে হুট করে তাকে সাইবার বুলিং বা প্রকাশ্যে হীন প্রতিপন্ন না করে, গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে শুধরে দেওয়ার চর্চা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো কোনো ভুল বা অপকর্ম প্রকাশ পেলে একাংশের মানুষ তাকে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। তবে সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের চরিত্রহনন পরিস্থিতিকে সমাধানের বদলে আরও জটিল করে তোলে।
প্রকাশ্যে অসম্মান নয়, ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সংশোধনের চেষ্টা কোনো ব্যক্তি অন্যায় করলে তার সেই আচরণের প্রতিবাদ হিসেবে সাময়িকভাবে সম্পর্ক বা চলাফেরা সীমিত করা যেতে পারে। তবে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাকে একা ডেকে তার ভুলগুলো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলা উচিত। পাবলিক পেজ বা জনসমক্ষে কাউকে ছোট করা কোনো সুস্থ ও সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।
ভুলের পেছনের কারণ ও অতীত অবদান বিবেচনা
অনেক সময় দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নানা ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকা একজন মানুষও কারো কুপ্ররোচনা, বিভ্রান্তি বা সাময়িক আবেগের বশবর্তী হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। তাই তার অতীতের ভালো কাজ ও সম্ভাবনাকে একেবারে মুছে না ফেলে, তাকে সংশোধন হওয়ার যৌক্তিক সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। সহপাঠী ও সমাজের দায়বদ্ধতা কাউকে সমাজচ্যুত করা বা ইন্টারনেটে ট্রোল করা সহজ, কিন্তু তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা প্রকৃত দায়িত্বশীলতা। এ ক্ষেত্রে সহপাঠী, বন্ধু এবং আশপাশের পরিবেশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ ও সহপাঠীদের মূল কাজ হওয়া উচিত যেকোনো সদস্যকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে এনে ইতিবাচক ধারায় যুক্ত রাখা। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং একতা ধরে রাখতে বিষোদ্গার ও সাইবার অ্যাটাকের বদলে সংশোধনমূলক উদ্যোগই একমাত্র সমাধান হতে পারে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।