মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো এলাকা চারদিকে এখনো আগুনের পোড়া গন্ধ। দুই একটি ছাড়া প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরের একই চিত্র। দেখলে মনে হয় যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো এলাকা।
সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের একটি সরকারি দপ্তরে ধ্বংসযজ্ঞের ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। চারদিকে এখনো আগুনের পোড়া গন্ধ। ভাঙচুর, লুটপাটসহ ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতচিহ্ন। এক–দুটি নয়, একে একে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১৩টি সরকারি দপ্তরে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল সরকারপ্রধানের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর জানাজানি হওয়ার পর বিজয় উৎসবে যোগ দেওয়া একটি পক্ষ বেলা সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ওই সব ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। শুধু উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সেই নয়, ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষত সোনাইমুড়ী থানাতেও। পুরো থানা ভবন যেন একটি পোড়া বাড়ি। সেখানে আজ মঙ্গলবার সকালেও চলে সুযোগসন্ধানীদের লুটপাট। পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে কেউ না থাকায় থানা ভবনটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এই সুযোগে থানা ভবনে পড়ে থাকা হাঁড়িপাতিল, বৈদ্যুতিক পাখাসহ অন্যান্য সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছেন সুযোগসন্ধানীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার পরিষদ কমপ্লেক্সে ঢুকতেই চোখে পড়ে কমপ্লেক্সজুড়ে ধ্বংসের চিত্র। উপজেলা পরিষদের ভবনের প্রবেশ পথেই পড়ে আগুনে পোড়া চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্রের পোড়া অংশ। এরপর সামনে এগোতে যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়, শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর (এলজিইডি) কার্যালয়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, আইসিটি কর্মকর্তার কার্যালয়, আনসার বিডিপি কর্মকর্তার কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়, সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, হামলা ও অগ্নিসংযোগ থেকে বাদ যায়নি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়াম ও মোজাফ্ফর আহম্মদ অডিটোরিয়ামও। আজ সরকারি দপ্তর খোলা থাকায় কিছু কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এসে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুদ্ধের সময় নির্বিচার হামলা চালালে যে ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ হয়, এখানে প্রায় প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সেই একই চিত্র দেখা গেছে। তাঁরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, কী অপরাধ ছিল সরকারি এসব দপ্তরের। এগুলো তো কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও ছিল না। এগুলো জনগণের করের টাকা দিয়েই আবার করতে হবে। তাহলে এই দায় তো সেই জনগণের ঘাড়েই আবার যাবে।
সোনাইমুড়ী থানায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এখনো কিছু ব্যক্তি লাঠি হাতে নিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। থানা ভবন যেন একটি পোড়া বাড়ি। চার দিকে পোড়া গন্ধ। পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য দেখা যায়নি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখনো একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী মেতে উঠেছেন লুটপাটে। তাঁরা থানা ভবনের ভেতর থেকে আংশিক পুড়ে যাওয়া হাঁড়িপাতিল, বৈদ্যুতিক পাখাসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা বলেন, পুরো কমপ্লেক্সের ভেতর হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ধ্বংসস্তূপ। তার কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে। হামলা করা হয়েছে তার বাংলোতেও। তখন তিনি কোনো রকমে নিজেকে রক্ষা করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।