প্রকাশিত: 5 October, 2026
সর্বশেষ আপডেট : 5 October, 2026

প্রবাসে থেকেও শেকড়ের টানে মানুষের পাশে- আবু আহমেদ সেলিম মিয়া

বাংলা টাইমস-ই প্রবাসী ডেস্ক মালদ্বীপ:
মানুষ পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, নিজের জন্মভূমি আর শেকড়ের টান কখনো ভুলতে পারে না। আর সেই টান যদি হয় প্রিয় বাবার রেখে যাওয়া মানবিক আদর্শের প্রতি, তাহলে হাজার মাইলের দূরত্বও সেই ভালোবাসাকে মুছে দিতে পারে না। নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ৩ নং ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামের কৃতি সন্তান আবু আহমেদ সেলিম মিয়া তেমনই একজন মানুষ। তিনি নবগ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম আবুল হোসেন হাশেম মিয়ার সুযোগ্য দ্বিতীয় সন্তান।মরহুম আবুল হোসেন হাশেম মিয়া ছিলেন এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাবার স্মৃতিই যেন আজ তাঁর পথচলার প্রেরণা
একজন সন্তানের জীবনে বাবার শূন্যতা কতটা গভীর—তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সময়ের সঙ্গে মানুষ অনেক কিছু ভুলে যেতে পারে, কিন্তু একজন বাবার স্নেহ, শিক্ষা, আদর্শ আর স্মৃতি কখনো মুছে যায় না।
মরহুম আবুল হোসেন হাশেম মিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর সন্তান আবু আহমেদ সেলিম মিয়ার প্রতিটি মানবিক উদ্যোগ যেন সেই বাবার স্মৃতির সঙ্গেই এক অদৃশ্য বন্ধনে জড়িয়ে আছে।বাবা হয়তো আজ পাশে নেই—নেই সেই পরিচিত কণ্ঠ, নেই স্নেহভরা শাসন, নেই কোনো ভালো কাজের পর বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই প্রশান্তির অনুভূতি। কিন্তু বাবার রেখে যাওয়া আদর্শ আজও তাঁর হৃদয়ে জীবন্ত। সমাজের কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে, কোনো দরিদ্র শিক্ষার্থীর হাতে বই-খাতা-কলম তুলে দিলে, কোনো অসুস্থ মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এলে কিংবা কোনো সামাজিক কাজে অংশ নিলে—হয়তো তাঁর মনে হয়,বাবা থাকলে আজ হয়তো এই কাজটি দেখে খুশি হতেন।এই অনুভূতিই যেন তাঁকে বারবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। বাবার রেখে যাওয়া ভালো কাজের ধারাকে থামতে দিতে চান না তিনি। বরং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাবার স্মৃতিকে আরও অর্থবহ করে তুলতে চান।হয়তো এটাই একজন সন্তানের পক্ষ থেকে বাবার প্রতি সবচেয়ে সুন্দর শ্রদ্ধা—বাবার জন্য শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বাবার আদর্শকে নিজের জীবনের কাজে ধারণ করা। আজ আবু আহমেদ সেলিম মিয়া প্রবাসে। কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকে সেই নবগ্রামে—যেখানে তাঁর শৈশব, তাঁর পরিবার, তাঁর বাবার স্মৃতি এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। তিনি হয়তো দূরে থেকে সবকিছু করতে পারেন না, কিন্তু যতটুকু পারেন, ততটুকু দিয়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কারণ তাঁর কাছে মানুষের জন্য করা প্রতিটি ভালো কাজ যেন বাবার স্মৃতির প্রতি একটি নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি। বাবা নেই—কিন্তু বাবার আদর্শ আছে। বাবা নেই—কিন্তু বাবার স্মৃতি আছে। বাবা নেই—কিন্তু তাঁর সন্তান মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাবার ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।একদিন হয়তো মানুষ তাঁকে দেখে বলবে—এটাই আবুল হোসেন হাশেম মিয়ার সন্তান; বাবার মতোই মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিখেছে।এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি একজন সন্তানের জন্য আর কী হতে পারে!প্রবাসের ব্যস্ততা ও হাজার মাইলের দূরত্ব পেরিয়ে মানুষের জন্য তাঁর এই ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত আরও বিস্তৃত হোক। তাঁর মানবিক কাজের মাধ্যমে মরহুম আবুল হোসেন হাশেম মিয়ার স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে আরও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।

আবু আহমেদ সেলিম মিয়া
কৃতি সন্তান, নবগ্রাম
৩ নং ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন, কবিরহাট, নোয়াখালী

আরও পড়ুন

  • সম্পাদকীয় এর আরও খবর