
মোহাম্মদ হানিফ : জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীতে এক ধরনের কৌশল অবলম্বন করে রেলওয়ে স্টেশনের জমি ও পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের পশ্চিম পাশের পুকুর অবৈধভাবে দখল করে দ্বিতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পর্দার আড়ালে থাকা এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এছাড়া টিনশেড দোকান তুলে করা হয়েছে মার্কেট।
বেগমগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার করিমপুর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রিয়াজের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, কামরুজ্জামান রিয়াজ চৌমুহনী পৌর এলাকার করিমপুর ওয়ার্ডের মৃত কালা মিয়ার ছেলে। তিনি নোয়াখালী-৩ আসনের সাবেক এমপি মামুনুর রশিদ কিরনের অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন। পরে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাগিয়ে নেন করিমপুর ওয়ার্ড যুবলীগের পদ। চাকরির পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসার নামে শুরু করেন টেন্ডারবাজি ও সরকারি জমি দখল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ বছর আগে ইসলামিয়া হাসপাতাল রোডসংলগ্ন রেলওয়ে স্টেশন সড়কের পাশের পুকুর দখল করেন। পরে ৮-১০টি দোকান তোলেন। কয়েকমাস আগে সেই জায়গা টিন দিয়ে ঘিরে তার ভেতরে তুলছেন দ্বিতল ভবন। এখনো সেই নির্মাণ কাজ চলছে।
আরো জানা যায়, গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমেরিকায় পালিয়ে গিয়েছেন কামরুজ্জামান রিয়াজ। বর্তমানে তার দখলকৃত সব সরকারি জমি ও সম্পদের দেখাশোনা করছেন ছোটভাই রাজু ভাণ্ডারী। ভবন নির্মাণের বিষয়টি লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে চারপাশে দেয়া হয়েছে টিনের উঁচু দেয়াল। যে কারণে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। দীর্ঘদিন থেকে সরকারি জমি দখল করে রাখলেও আওয়ামী শাসনামলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সাহস করেনি রেল কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চৌমুহনী রেলওয়ের এক কর্মচারী জানান, গত ১০-১২ বছর থেকে রেলওয়ের জমি দখল করে ব্যবসা করে আসছে যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান। আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার পরে এখন সেটা দেখভাল করছে রাজু ভাণ্ডারী। এর আগে জমি দখলের বিরুদ্ধে এক ষ্টেশন মাস্টার কথা বলায় তাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হেনস্তা করা হয়। যুবলীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে হুমকি দেয়া হয় স্টেশন মাষ্টারকে। পরে ভয়ে এ জমি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনি।
রেলওয়ের জমি দখলের বিষয়ে চৌমুহনী স্টেশন মাস্টার মো. নোমান জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র অনেক বছর ধরে রেলওয়ের পুকুর দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে। বর্তমানে ওই পুকুরের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধা দিলে নানাভাবে নাজেহাল করা হয়। তবে কোনো দখলদারদের নাম তিনি স্বীকার করেননি।
লাকসাম রেলওয়ে ভূমি অফিসের কানুনগো ইকবাল হোসেন জানান, চৌমুহনী রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিমে একটি পুকুর রয়েছে। তার দুই পাশেই অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে কে বা কারা পুকুর দখল করে ভবন নির্মাণ করছে সেটা তিনি জানেন না। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজু ভাণ্ডারী বা তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :