
উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারের হামলার শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। শনিবার (৪ জানুয়ারী) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ এর সোনাইমুড়ী জোনাল অফিসের সামনে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাজ্জাদুল ইসলাম সোনাইমুড়ী থানায় হামলাকারী ঠিকাদার সেলিম মিয়াসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন ইলেক্ট্রিসিয়ান ও লাইনম্যানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে বারোটার দিকে তথ্য সংগ্রহ করতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যান ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
সেখানে গিয়ে কর্মকর্তাকে অফিসে না পেয়ে নিচে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় পল্লী বিদ্যুৎ এর সাবেক ইলেক্ট্রিসিয়ান ও বর্তমান ঠিকাদার সেলিম মিয়া অতর্কিত ভাবে এসে সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলেন। প্রতিবাদ করলে ইলেক্ট্রিসিয়ান ও লাইনম্যানদের ডেকে নিয়ে মারধোর শুরু করেন। খবর পেয়ে সোনাইমুড়ী থানার এসআই ইসরাফিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেন।জানা যায়, হামলাকারী সেলিম মিয়া সোনাইমুড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেক্ট্রিসিয়ান ছিলেন। গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়ার কাজ করতের তিনি।
বিভিন্ন সময় পল্লী বিদ্যুৎ এর খুঁটি ও মিটার দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা নিয়ে নয়ছয় করায় একাধিকবার গ্রামবাসীর কাছে মারধোর খেয়েছেন তিনি। তার মধ্যে সোনাইমুড়ী কৌশল্যারবাগ গ্রামের মান্নান ডাক্তারের ছেলে ওয়ার্ড কমিশনার জাফরের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি দেওয়ার কথা বলে নয়ছয় করায় তাকে মারধোর করে। উপজেলার ভানুয়াই গ্রামের ভূইয়া বাড়ির সুয়া মিয়ার ছেলে রতন ভূইয়ার কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা নিয়ে হয়রানি করায় তিনিও ইলেক্ট্রিসিয়ান সেলিম মিয়াকে মারধোর করেন। এছাড়াও সেলিম মিয়া নিজেকে যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সোনাইমুড়ী বাজারের মামনি হোটেলের মালিক ফয়েজ মিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় তাকে আটক করে জনগণ মারধোর করে।
পরে সেলিম মিয়া ও তার বাবা জয়নাল আবেদিন জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে সেবারের মত নিস্তার পায়। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেইন সুজনকে সাংবাদিক পরিচয়ে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করলে তাকে সোনাইমুড়ী বাজারের নূরানী ফার্নিচারের ভেতরে চড়থাপ্পড় মারেন। বারাহিপুর গ্রামে আব্দুর রব মেম্বারের কাছ থেকে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করায় তাকে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়ে থানায় সোপর্দ করে। তৎকালীন সোনাইমুড়ী থানার ওসি আব্দুস সামাদ পিপিএম বৈঠকের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি না করার শর্তে তাকে মুক্তিদেন। তার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় বারাহিপুর গ্রামে ইউপি মেম্বার আব্দুর রব ফৌজদারি অপরাধ ও কালুয়াই গ্রামের নাজমুল হক নাজিম বাদি হয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় নানা অপরাধে একাধিক লিখিত অভিযোগ, জিডি ও আদালতে মামলা রয়েছে। সে নিজেকে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার পরিচয় দিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ এর ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পল্লী বিদ্যুৎ এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন। হামলার শিকার সাংবাদিক সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুৎ এর সোনাইমুড়ী জোনাল অফিসের ডিজিএম সাইফুল ইসলামের সাথে দেখা করতে যান। অফিস কক্ষে কর্মকর্তাকে না পেয়ে নিচে অপেক্ষা করতে থাকেন। এসময় অভিযুক্ত সেলিম মিয়া নামের ব্যক্তি তার ওপরে অতর্কিত হামলা করেন। প্রতিবাদ করলে বিদ্যুৎ অফিসে থাকা কয়েকজন লাইনম্যান ও ইলেক্ট্রিসিয়ানদের নিয়ে মারধোর করতে থাকেন। তার ওপরে অতর্কিত ভাবেই হামলা করা হয়।
পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান প্রতিবেদককে। সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, সকালে সাংবাদিকের ওপরে হামলার ঘটনা জানতে পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এবিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :