সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কথা হয় জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, কিছু দিন আগে চিড়িয়াখানায় হায়েনা এক শিশুর হাত কেড়ে নিয়েছিল। তার চিকিৎসার সব ব্যয় আমরা বহন করছি। তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ জুন শিশুটি আবার এসেছিল ড্রেসিং করার জন্য। তখন আমাদের অফিসাররা সঙ্গে ছিল। তাকে টিকা দেওয়ার যে বিষয় রয়েছে, অফিসাররা সঙ্গে থেকেই করছে। তার হাত অনেকটাই শুকিয়ে এসেছে। তবে ডাক্তার বলেছে ঈদের পরে তাকে আবার আসার জন্য। প্রতিবারই আমাদের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার জন্য চিড়িয়াখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে হয়েছে। আর চিন্তাভাবনার ফসল হচ্ছে আমরা বেশ কিছু খাঁচার সামনে তারের উঁচু ব্যারিকেড করে দিয়েছি। এটা যতগুলো হিংস্র প্রাণী আছে, সব প্রাণীর খাঁচাতেই করা দরকার। সে লক্ষ্যেই আমরা এগোচ্ছি।
নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে এক শিশু চলে যাচ্ছিল ভালুকের খাঁচার কাছাকাছি
হিংস্র প্রাণীদের খাঁচার সামনে নিরাপত্তার জন্য কর্মী রাখার ব্যাপারে এই পরিচালক বলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানায় ২০টি হিংস্র প্রাণীর খাঁচা রয়েছে। ২০টি খাঁচার সামনে আলাদা লোক রাখতে পারিনি। মোট যে জনবল আছে, সেটা কথা চিন্তা করলে সম্ভব নয়। এ কারণেই আমরা ফিজিক্যাল নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব দিয়েছি। এ জন্য যেখানে ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার উঁচু করে দেওয়া দরকার, সেখানে নেটের বেড়া দিয়ে উঁচু করে দিয়েছি। আর অন্য খাঁচাগুলোয় চেষ্টা করেছি সার্বক্ষণিক এনিমেল কেয়ারটেকার রাখার জন্য। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এখনও কিছু খাঁচার সামনে দেওয়া ব্যারিকেডের ভেতরে শিশুরা ঢুকে পড়ছে কিন্তু কোনও নিরাপত্তাকর্মীকে দেখা যায়নি, এমনটা জানালে রফিকুল ইসলাম বলেন, হিংস্র প্রাণীগুলোর যে খাঁচা রয়েছে, সেগুলো অনেক বড়। তাই এর এক পাশে নিরাপত্তাকর্মী থাকলে অপর পাশে দেখা যায় না। এ কারণে দর্শনার্থী বা শিশুরা ঢুকে পড়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমাদের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু উৎসুক দর্শনার্থী এ রকমভাবে প্রবেশ করছে, এটা ঠিক না। এ ক্ষেত্রে যখন আমাদের কর্মীদের নজর পড়ছে, তারা বারণ করছে, সচেতন করছে।
কত দিনের মধ্যে চিড়িয়াখানাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাবে, এমন প্রশ্নে পরিচালক বলেন, সব হিংস্র প্রাণীর খাঁচার বেষ্টনীগুলোকে আমরা উঁচু করতে চাই। এ জন্য আমাদের সময় ও অর্থের প্রয়োজন। কেবল নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। আমরা আশা করছি এই অর্থবছরেই এসব কাজ করতে পারবো। আমরা আশাবাদী যেই দুর্ঘটনা ঘটেছে, এ রকম কিছু আর সামনে ঘটবে না। তারপরও বলবো যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, তার মূলে ছিল অসচেতনতা।
চিড়িয়াখানার প্রতিটি খাঁচার সামনে লেখা আছে প্রাথমিক নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করবেন না। কিন্তু দর্শনার্থীরা তা মানছেন না।
ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিনোদন করতে আসা দর্শনার্থীদের আরও সচেতন হতে হবে। আমরা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাবো। কিন্তু দর্শনার্থীদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।



আপনার মতামত লিখুন :