• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১২ এপ্রিল, ২০২৫

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে দেশে স্বৈরাচারী শাসক তৈরি বন্ধ হবে না – আশরাফ আলী আকন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেছেন, ৫ আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে। এখনো পূর্বের বাজে সিস্টেমগুলো বহাল তবিয়তে রাখার সুযোগ নেই। অতীতে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে দেশের মানুষকে রাজা প্রজায় বিভক্ত রাখা হয়েছিল। সিস্টেমগত ত্রুটির ফাঁকফোকরের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিনিয়ত স্বৈরাচার শাসকের কবলে পড়েছিল দেশের মানুষ। এজন্য পিআর তথা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে স্বৈরাচার তৈরির পথ বন্ধ হবে। দেশের সকল মানুষের ভোটাধিকারের মূল্যায়ন হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কারে যে ৪ টি প্রস্তাবনা দিয়েছে, তা কার্যকর হলে অবশ্যই এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

শনিবার (১২ এপ্রিল) বাদ জোহর থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা শাখা কর্তৃক পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারসহ সকল গুম, খুন, ধর্ষণ ও অরাজকতার বিচার, আইন শৃংখলার পরিস্থিতির উন্নতি, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার শেষে সংখ্যানুপাতিক (চজ) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও বৈষম্যহীন ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠার দাবিতে জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনী রেলওয়ে চত্ত্বরে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, আওয়ামী লীগ দলগত ভাবে এদেশে দুঃশাসন চালিয়েছে। জনগণের উপর জুলুমের স্টিমরোলার চালিয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। তাই তাদের বিচার আয়োজন এদেশের গণমানুষের মৌলিক দাবি। এটা এড়ানোর সুযোগ নেই। যারা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে, তারা এদেশের জনগণের শত্রু। দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, এমন চরিত্রের নেতারাই বারবার তাদের শাসক হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দেশের দায়িত্ব দেওয়া হলে জনগণকে এসব দুর্ভোগের শিকার কখনোই হতে হবে না।

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, নতুন বাংলাদেশে অনেকে পতিত স্বৈরাচারের রূপধারণ করতে চাচ্ছে। হানাহানি, দখলদারি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে জনমনে আতংক ছড়াচ্ছে। সচেতন জনগণ এদের শক্ত হাতে প্রত্যাখ্যান করবে। সংস্কার তৎপরতায় বিরোধিতা জনগণের প্রত্যাখ্যানের ভয়েই হচ্ছে।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বরেণ্য আলেমেদ্বীন মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের সোনালী যুগের বাস্তবায়ন ঘটাতে করে যাচ্ছে। ওলামায়ে কেরামকে সম্মানজনক রাহবারের ভূমিকায় রেখে সমাজকে সংশোধন করতে চাচ্ছে। পরিবর্তিত বাংলাদেশে ইসলামী আদর্শের বাস্তবায়ন ব্যতিত গণমুক্তি অসম্ভব।

মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী বলেন, সম্প্রতি গাযায় বর্বর ইসরাঈলীদের দ্বারা নিপীড়িত ফিলিস্তিনীদের প্রতি যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে, তা এককথায় মানবতার ইতিহাসে নিষ্ঠুরতম। মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নেতৃবৃন্দ চরম অবহেলা প্রদর্শন করছেন, যা ইসলামের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করছে। অন্তর্র্বতীকালীন সরকার ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘে শক্ত প্রতিবাদী অবস্থান ব্যক্ত করা উচিত।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ মুনতাসির আহমাদ বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে উদ্যোগটি আরো জোরালো হতে হবে। দেশের শিক্ষাঙ্গনে নামধারী কিছু ছাত্র সংগঠন বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে পুরনো আধিপত্যবাদী চরিত্র প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিনষ্ট করছে। এদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে সচেতন ছাত্র সমাজকে। পাঠ্য বইয়ে এখনো এদেশের মানুষের বোধ বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেনি। ইসলামী শিক্ষানীতি তৈরি হয়নি বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মুসলমানদের জন্য। সরকারের এসব বিষয়ে নির্বিকার থাকা নতুন বাংলাদেশে আমরা প্রত্যাশা করিনা। জুলাই বিপ্লবে ছাত্র জনতা রক্ত এজন্য দেয়নি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা উত্তরের সভাপতি হাফেয মাওলানা নজীর আহমাদ এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা কামাল উদ্দিন এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাওলানা ইউসুফ ভূঁইয়া। জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় দাওয়াহ ও অফিস সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, কেন্দ্রীয় মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক রাগিব ওমর রাসেল, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক জনাব মহিউদ্দিন।

জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা উত্তরের সহ-সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ আসেম, মাস্টার নেয়ামত উল্লাহ, জেলা দক্ষিণের সহ-সভাপতি মাওলানা ফিরোজ আলম, বামুক জেলা উত্তরের সদর মাওলানা হোসাইন আহমাদ কালিকাপুরী, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা বেলায়েত হোসাইন, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা উত্তরের সভাপতি জিএম মাহমুদুল হাসান হামিদী, জেলা দক্ষিণের সভাপতি ইকবাল হোসাইন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা উত্তরের সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসাইন শাহীন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা উত্তরের সভাপতি মুহাম্মাদ শিব্বির আহমাদ, জেলা দক্ষিণের সভাপতি মুহাম্মাদ ওয়ালী উল্লাহ, নোয়াখালী সরকারি কলেজ সভাপতি মুহাম্মাদ আব্বাস উদ্দিন, চৌমুহনী এসএ কলেজ সভাপতি মুহাম্মাদ আল আমীন সহ জেলা ও থানা নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন