
হাবিবুর রহমান রনি, সুবর্ণর : সুবর্ণচরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া ৯ বছরের আয়মান সাদিক এখন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মুখে মুখে। বয়স মাত্র ৯ হলেও মাইক্রোফোন হাতে সে যখন মাঠে নামে, দর্শকদের মনে পড়ে যায় পেশাদার কোনো ধারাভাষ্যকারের কথা। এই ক্ষুদে প্রতিভা শুধু এলাকার নয়, দেশের ক্রীড়ামঞ্চে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে।
আয়মানের ধারাভাষ্য শুনে অনেকেই অবাক হন। তার কণ্ঠে রয়েছে পাকা ধারাভাষ্যকারের মতো আত্মবিশ্বাস ও আবেগ। স্থানীয় ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সে খেলার প্রতিটি মুহূর্ত জীবন্ত করে তোলে। তার এই প্রতিভা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তাকে “ক্ষুদে ধারাভাষ্যকার” হিসেবে আখ্যা দেন।
আয়মানের ধারাভাষ্যের প্রতি আগ্রহের শুরু তার বাবার হাত ধরেই। তার বাবা নিজেও একজন ধারাভাষ্যকার, যিনি স্থানীয় বিভিন্ন খেলায় ধারাভাষ্য দেন এবং অনেক আগে থেকেই ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে খেলার মাঠে যাওয়া, ধারাভাষ্য শোনা এবং তা নকল করতে করতে আয়মানের ভেতর গড়ে উঠেছে অসাধারণ দক্ষতা।
আয়মানের বাবা কাজল কালো বলেন, তার বয়স যখন চার বছর তখন হাটিয়াতে একটি টুর্নামেন্ট পরিচালনা করার সময় সাথে ওকে নিয়ে যায়, সেখানে আমার কথাগুলো সুন্দর ভাবে মুখস্ত করে এবং রাতে বাড়িতে এসে একটু একটু করে সেগুলো বলতে থাকে পরবর্তী তে তার মায়ের চোখে পড়লে সেটি ভিডিও করে পাঠায়। তখন আমি দেখি মাশাল্লাহ ও খুব ভালোভাবে শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারে। এরপর থেকে প্রায় প্রত্যেকটি টুর্নামেন্টের তাকে আমি সঙ্গে করেই নিয়ে যায়। আইমান এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাভাষ্য করে থাকে ইতিমধ্যে সে একহাজারের মতো ম্যাচ পরিচালনা করেছে।
আয়মান আমাদেরকে জানাই, তার বাবার ধারাভাষ্য দেখতে দেখতেই সে শিখেছে, তার মাইক হাতে নিলে অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে । আমাকে একজন খুদে ধারাভাষ্যকার হিসেবে সবাই চেনে এবং অনেক আদর করে। তার স্বপ্ন সেই বড় হয়ে একজন আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার হবে।
যখন অন্য শিশুরা খেলায় ব্যস্ত থাকে, আয়মান ব্যস্ত থাকে খেলা বিশ্লেষণ আর কমেন্ট্রি করতে। সে খেলার প্রতিটি বল, প্রতিটি মুহূর্ত এত সুন্দরভাবে বর্ণনা করে যে, দর্শকরা তা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনে।
আয়মানের এই প্রতিভা বিকাশে তার পরিবার যেমন পাশে আছে, তেমনি তার স্কুলের শিক্ষকরা তাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধারাভাষ্যের সুযোগ দেন। বাবা ছেলের এই অনন্য জুটি এলাকার অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
আয়মানের স্বপ্ন একদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচে ধারাভাষ্য দেওয়া। সেই লক্ষ্যে সে নিয়মিত খেলা দেখে, বিখ্যাত ধারাভাষ্যকারদের অনুসরণ করে এবং বাবার সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ক্ষুদে ধারাভাষ্যকারের সাফল্য কেবল আয়মানের নয়, এটি একটি পরিবার, একটি গ্রাম, এমনকি একটি দেশের জন্যও গর্বের বিষয়। সমাজের উচিত এ ধরনের প্রতিভাকে খুঁজে বের করে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেওয়া।
আপনার মতামত লিখুন :