
উপজেলা প্রতিনিধি, চাটখিল : প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে চাটখিল উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মন্দার বাড়ি থেকে জয়নাল আবেদিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় জন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে একই এলাকার ভূমিগ্রাসী ও আইন অমান্যকারী জসিম উদ্দিনগং। তাদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করলে ঐ পরিবারের নারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দিতে প্রশাসন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নির্দেশ দিলেও তারা তা অমান্য করে বাধা দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় সর্বশেষ ৯ এপ্রিল এলাকাবাসীর পক্ষে জয়নাল আবেদীন বিষয়টি সমাধানের জন্য পুনরায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়নপুর মন্দার বাড়ির সামনের পুকুর পাড় দিয়ে যাওয়া চলাচলের রাস্তায় গর্ত করে, রাস্তার উপর বিভিন্ন গাছের চারা রোপন, সুপারি গাছ পেলে এবং ময়লা আবর্জনা ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখে। দীর্ঘ প্রায় ১শ বছর থেকে উক্ত গ্রামের আবদুল মান্নান পাটোয়ারী, আশোক পাটোয়ারী বাড়ি, জয়নাল মিয়ার বাড়ি এবং পালের বাড়ি ২০/২৫ টি পরিবারের লোকজন এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছিল।
পাশবর্তী সোমপাড়া কলেজ, সোমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, খোয়াজের ভিটি ফাযিল ডিগ্রি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহু ছাত্র-ছাত্রী এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু মন্দার বাড়ির মৃত মহিন উদ্দিনের তিন মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে না থেকে বাবার বাড়িতে বসবাস করছে। ঐ রাস্তার পাশে সরকারের খাস খতিয়ানের কিছু জায়গা মহিন উদ্দিনের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে লিজ নিয়েছিল। লিজের সূত্র ধরে তার বিবাহিত তিন মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার, মায়া বেগম ও শিরিন আক্তার এবং ছেলে মো. কামাল উদ্দিন রাস্তাটি লিজ অংশের দাবি করে দখল করে রাখে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম বাকী বিল্লাহকে জানানো হলে তিনিও রাস্তায় চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করতে ঐ পরিবারকে নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশও অমান্য করে তারা চলাচলে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে এবং কেউ যাওয়ার সময় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে।
চেয়ারম্যানের নির্দেশ না মানায় জয়নাল আবেদীনগং চাটখিল উপজেলা প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দায়ের করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে লিখিত নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশ অমান্য করায় জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। চাটখিল থানার তৎকালীন এসআই মো. আবু কাউছার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় আসামীদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
জয়নাল আবেদীন জানায়, তারা প্রশাসনকে পাত্তাই দিচ্ছে না। প্রশাসনের লোকজন সরাসরি এসে তাদের বলে যাওয়ার পরও তারা বাধা সৃষ্টি করছে। গত কিছুদিন আগে আমাদের বাড়ির একটি ছেলে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের মহিলারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, অনেকগুলো অভিযোগ জমা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে সেগুলো সুরাহ করা হচ্ছে। সহসাই সমঝোতার জন্য উভয়পক্ষকে ডাকা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :