• ঢাকা
  • শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বিদেশি ঋণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সম্পর্কিত নির্দেশনা বিভিন্ন সার্কুলার ও গাইডলাইনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এবার সেগুলোকে হালনাগাদ করে সমন্বিত আকারে আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে, ব্যাংকগুলোকে গ্যারান্টি, স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (SBLC) এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতিমূলক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত সব নিয়ম একত্র করে নতুন সার্কুলার জারি করেছে। এটি আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে- ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সম্পর্কিত নিয়মের আওতায় বাণিজ্যিক ঋণ, বিদেশে প্রদত্ত গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে ঋণ, দেশীয় ও বিদেশি উভয়পক্ষের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যারান্টি, রিপেমেন্ট গ্যারান্টি এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ প্রদানের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এ অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে গ্যারান্টি, স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (SBLC) এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতিমূলক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম যেমন ইউআরডিজি (Uniform Rules for Demand Guarantees), ইউসিপি (Uniform Customs and Practice for Documentary Credits), আইএসপি (International Standby Practices) অনুসরণ করতে হবে। তবে সেগুলো অবশ্যই বাংলাদেশের প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

বিশেষায়িত অঞ্চলভুক্ত প্রতিষ্ঠান (টাইপ–এ, বি ও সি) এর জন্য ঋণ সুবিধার নিয়মাবলি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ, টাইপ-বি প্রতিষ্ঠানের জন্য টাকায় ঋণ, ইউস্যান্স বিল ডিসকাউন্টিং, বি ও সি প্রতিষ্ঠানের জন্য চলতি মূলধন সুবিধা এবং মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণগ্রহণের বিধান।

এছাড়া, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ সংক্রান্ত বিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণগ্রহণ, ঋণ পরিশোধের গ্যারান্টি এবং বিদেশি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সব নিয়ম এক ছাতার নিচে আনার ফলে বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে। বিশেষত বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে আর্থিক খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সুসংহত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিবিধানকে আরও সরলীকরণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন