
উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় ২০১৮সালে বিএনপির নির্বাচনী পথসভা পরবর্তী উপজেলা বিএনপি নেতার বাড়িতে অবস্থান কালীন বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও গাড়ি চুরির অভিযোগে আজ(রবিবার) সুবর্ণচর উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ ইকবাল বাদী হয়ে চর জব্বর থানায় এই মামলা টি করেন।জেলা সদর-সুবর্নচর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খায়রুল আলম চৌধুরীসহ এজহার নামীয় ৮২জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২-৩শ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য মতে জানা যায়,২০১৮সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় ধানের শীষ প্রার্থী শাহজাহান সাহেবের নির্বাচনী পথসভার জন্য উপজেলার নেতা-কর্মীরা হোন্ডা শোডাউন ও পথসভা করে।পথসভা পরবর্তীকালে নেতাকর্মীরা দুপুরের খাবারে জন্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়ার বাড়িতে অবস্থান করলে, স্থানীয় আওয়ামীলীগ,যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগের নেতা -কর্মী রা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড,হাত বোমা, গুলি ও হটিস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করে।
এসময় তারা উপজেলা সভাপতিসহ বিএনপির ১০ জন নেতাকর্মী কে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়।এছাড়া বিএনপির নেতা কর্মীদের প্রায় ৬০০(ছয়শত)এর অধিক হোন্ডা আত্মসাৎ করে, এর মধ্যে ৪০০ মতো হোন্ডা থানায় নিয়ে আসা হয় বাকিগুলো আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায়। রবিবার ( ১৬ই ফেব্রুয়ারী ) এ মামলা হয় বলে চরজব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যতা নিশ্চিত করেন। মামলা প্রধান আসামী করা হয়েছে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে।২নং আসামী করা হয়েছে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ.এইচ.এম খায়রুল আনম সেলিমকে। এছাড়াও মামলায় অন্যানের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে চর বাটা ইউপির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রাজিব, মোস্তফা কামাল কাজল, মোস্তফা পারভেজ (সভাপতি, ২নং চরবাটা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ), হানিফ চৌধুরী (সাধারন সম্পাদক, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামীলীগ), আলা উদ্দিন, (সাধারন সম্পাদক, চরবাটা ‘ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ) তরিকুল ইসলাম (সাবেক চেয়ারম্যান, চর জব্বার ইউপি), নুর ইসলাম মানিক মেম্বার, উৎপল চন্দ্র মজুমদার, সামছুদ্দিন বাবুল (সাধারন সম্পাদক, ৪নং চর ওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ), বেলায়েত হোসেন, (সাবেক
চেয়ারম্যান, চর আমান উল্যা ‘ইউপি), আবদুল্লাহ আল মামুন জাবেদ (আহবায়ক, সুবর্ণচর উপজেলা ছাত্রলীগ), ছিদ্দিক মেম্বার, আক্তার মেম্বার, কেফায়েত উল্যা, সিরাজুল ইসলাম, বদিউল আলম (আহবায়ক, চরজব্বার ইউনিয়ন যুবলীগ), মোঃ শাহআহান (সাধারন সম্পাদক, চরজব্বর ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ), আবদুল মান্নান ভূইয়া (সাংগঠানক সম্পাদক, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামালীগ ও চেয়ারম্যান, চর ওয়াপদা ইউপি), হাসান, মোঃ মামুন, জুয়েল, মহিব উল্যা, আবুল কালাম, আবদুর রহমান বাবলু, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ নুর , মোঃ আজগর, ফয়সাল আকাশ(চরবাটা), সাইফুল্যাহ খসরু (যুগ আহবায়ক, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ, চেয়ারম্যান, ৫নং চর জুবলী ইউপি), ফজলু, ফিরোজ আলম, আখেরী মাসুদ, মহি রাশেদ, পিতাঃ মফিজুল ইসলাম, মোঃ হানিফ, পিতা, ফয়সাল, মোঃ বেলাল, মোঃ বাবুল, কামাল হোসেন, জাকের
হোসেন, মোঃ মোক্তার, পলাশ, আসিক, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মোঃ জাকের, আবদুল মান্নান, মহি উদ্দিন। ইব্রাহিম ,হানিফ , ইসমাইল , হুমায়ুন , দুর মোহাম্মদ মাঝি, আমাল উদ্দিন , সাইফুল ইসলাম রুবেল, মোঃ মামুন, নুরুল আমিন প্রকাশ চুঙ্গা নুরুল আমিন, মোঃ মোতাহের, সভাপতি, ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, মোঃ সুমন, মোঃ সোহাগ, আজাদ , আলা উদ্দিন, অন্তর, জুয়েল, হাছান, রফিক উল্যা বাদশা, জাকের-১, জাকের-২ , রফিকুল ইসলাম ভূইয়া, মোঃ জাকের-৩ , আবদুল মন্নান, মহি উদ্দিন , জামশেদ প্রঃ জামশেদ ডাক্তার, মোঃ জাকের, পিতা: মৃত নুরুল আমিন, আবদুল মন্নান, মহি উদ্দিন, মোজাম্মেল হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান, মোঃ আজাদ, আনছার আলীসহ আরও অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ জন সন্ত্রাসীর কথা জানিয়েছে মামলার বাদি।
এসময় মামলার বাদি সুবর্ণচর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারন সম্পাদক রাশেদ ইকবাল বলেন, গত ২২শে ডিসেম্বর ২০১৮ সালে ঘটনার পর থানা-পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করায় এতো বছর পর সুযোগ আসায় মামলাটি করেছি।চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃশাহিন মিয়া বলেন, ৮২জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।এখন মামলার এজাহার অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :