
মোজাম্মেল হোসেন কামাল, বেগমগঞ্জ : হ্যাঁ না ভোট যারা চায়, তারা বিদেশী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। নির্বাচিত সরকার ছাড়া কোন অজুহাত চলবে না। জুলাই আন্দোলনে নেতা হয়ে তারা জাতীয় সংসদে যেতে চায়। তারা মগজাস্টিস করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তদবির চালাচ্ছে। তারা হোস্টেলে থাকতেন, হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে নিজ এলাকায় শো-ডাউন করছেন। হোটেল কন্ট্রিন্টোলে ইফতারের নামে ৫ কোটি টাকা ব্যয় করেন। কোথায় থেকে এসেছে তার এই টাকা। যারা সেনা বাহিনীতে বিতর্কিত করতে চান তারা দেশের শত্রু। যারা ৪৭ ও মুক্তিযোদ্ধের একাত্তরকে অস্বীকার করে তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার নেই।
আমাদের সেনাবাহিনী আস্থা ও বিশ্বস্থতার প্রতীক হিসেবে আবারও প্রমান করেছে। ১৯৯১ সনে স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনী জনগনের উপর গুলি চালায়নি। সেই দিন জেনারেল নুর উদ্দিন সঠিক ভূমিকা পালন করায় এরশাদ সরকারের পতন হয়েছে। ২৪-এর ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়, ছাত্র লীগ, যুবলীগ, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি জনগনের উপর নির্বিচারে শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগনের উপর গুলি চালিয়েছে। শত শত আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছে। সেই দিনও সেনাবাহিনী জনগনের উপর গুলি চালায়নি। সে কারণে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা আন্দোলনের মুখে পালিয়েছে।
আমাদের সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। সে দিন পাক সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ করে যেসব অফিসার মেজর জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাদেরকে সেক্টর কমান্ডার করে কর্ণেল এমএজি ওসমানীর নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। আজ দেশের ক্লান্তিকালেও দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী জনগনের পাশে অবস্থান করে আবারও প্রমান করেছে তারা সত্যিকারের দেশ প্রেমিক। ১৯৯১ সনে এরাশাদ পতনের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরাপক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পুনরায় প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যান।
তিনি দেশ জাতীর কাছে চির স্বরণীয়। আজকের অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুঃ ইউনুস নোবেল বিজয়ী হয়ে দেশে এলে তাঁকে বিএনপি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করে। শেখ হাসিনার রোষানলে পড়ে হয়রানি মামলার শিকার, অপবাদ ও ষড়যন্ত্রের কবলে পড়লে বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় সংসদে ও বর্হিঃ বিশ্বে ড. ইউনুসের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। ড. ইউনুস প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের মত স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এটাই আমার বিশ্বাস।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলু গতকাল ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে চৌমুহনী হক শপিং কমপ্লেক্সের হ্যাং আউট হলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও বেগমগঞ্জ উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক মোঃ রুস্তম আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌমুহনী পৌর বিএনপির সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলমসহ বেগমগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সভাপতি সেক্রেটারীবৃন্দ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :