প্রকাশিত: 13 May, 2025
সর্বশেষ আপডেট : 13 May, 2025

হাতিয়ায় সালিশ বৈঠকের রায় পক্ষে না যাওয়ায় সালিশদারকে পিটিয়ে জখম

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : হাতিয়ায় জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে রায় পক্ষে না যাওয়ায় সালিশদার আনোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রেহানিয়া গ্রামে রবিবার (১১ মে) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে হাতিয়া থানায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, রেহানিয়া গ্রামের সফিক উদ্দিন ও আবু সুফিয়ানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর আগেও একাধিক সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হলেও সমস্যা সমাধান হয়নি। সর্বশেষ সালিশে সফিক উদ্দিনকে বিবাদীয় জমির মালিক বলে রায় দেওয়া হলেও তিনি জমি বুঝে না পেয়ে আবু সুফিয়ানের দখলে রেখে দেন। পরবর্তীতে দুই পক্ষের সম্মতিতে আবারও এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যেখানে আনোয়ার হোসেনকে সালিশদার হিসেবে মনোনীত করা হয়।

সালিশ বৈঠকে আনোয়ারসহ অন্যান্য সালিশদাররা পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত প্রদান করলে আবু সুফিয়ান ও তার লোকজন এর বিরোধিতা করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা তর্ক-বিতর্ক শুরু করে এবং সালিশে অংশ নেওয়া সফিক উদ্দিনকে জুতা দিয়ে আঘাত করে। উভয় পক্ষকে শান্ত করতে গেলে আবু সুফিয়ানের লোকজন আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা চালায়। তাকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।

আহত আনোয়ার হোসেন বলেন, “সালিশ শেষে হঠাৎ করে তারা আমার ওপর হামলা চালায়। হামলায় আমার হাত ও বাম কানে মারাত্মক জখম হয়। আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই সাথে তারা আমার সঙ্গে থাকা ৭৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও ঘড়ি নিয়ে যায়, যা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন, যেখানে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা জানান, “ঘটনার বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে সাগরিয়া ফাঁড়িকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন