প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মে, ২০২৫

হাতিয়ায় সী-ট্রাক চলাচলে বাধা, সিন্ডিকেটের দাপটে নিরাপদ যাতায়াত সংকটে

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : হাতিয়ায় যাত্রীবাহী সী-ট্রাক চলাচলে বাধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহে বাধা, নির্ধারিত সময়ের আগে ঘাট ছেড়ে যাওয়ার চাপ, এমনকি যাত্রী উঠতে না দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় ট্রলার মালিকদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা রুটে চলাচলকারী এসটি শৈবাল নামক সরকারি সী-ট্রাকের মাস্টার ও স্টাফদের ওপর এক হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি সী-ট্রাকের স্টাফদের উদ্দেশ্যে গালাগাল ও হুমকি দিচ্ছে এবং দ্রুত ঘাট ত্যাগে বাধ্য করছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে হাতিয়ার ঘাট এবং যাত্রী পারাপারের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের বাইরে চলে যায়।

ইজারাদারদের অনুপস্থিতিতে ফিটনেসবিহীন ট্রলার ও স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার শুরু হয়। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠে, যারা এসব যানবাহন পরিচালনা করে আসছে। বর্ষা মৌসুমে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রশাসন সী-ট্রাক চালু করলেও এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এই সিন্ডিকেট। তারা সী-ট্রাকের কার্যক্রমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বাধা দিতে শুরু করে।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জামশেদ নামের এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানঘাটে সী-ট্রাকের টিকিট কাউন্টারে ঢুকে কর্মরতদের বের করে দেন এবং টিকিটের বান্ডেল ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করে।
এর কিছুদিন পর একই ঘাটে সী-ট্রাকে যাত্রী উঠতে বাধা দেওয়া হয়। সী-ট্রাকের প্রবেশপথের সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে কিছু ব্যক্তি যাত্রীদের জোর করে অন্য যানবাহনে উঠতে বাধ্য করে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

এ রুটের নিয়মিত যাত্রী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, “শীতকালে বিকল্পভাবে নদী পার হওয়া গেলেও বর্ষায় নিরাপদ পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হলো সী-ট্রাক। কারণ তখন নদী উত্তাল থাকে এবং অন্য বাহনে যাতায়াতে ঝুঁকি থাকে।
এসটি শৈবাল সী-ট্রাকের মাস্টার আফজাল হোসেন বলেন, “ঘটনার দিন সকাল ৮টায় ট্রিপ নির্ধারিত থাকলেও সাড়ে ৭টা থেকে সাইফুল ও তার সহযোগী আলমগীর আমাদের সী-ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার জন্য গালিগালাজ শুরু করে। রশি না খুলে দেওয়ায় স্টাফকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা আমার ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। বাধ্য হয়ে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সী-ট্রাক ছেড়ে দেই।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনা আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা মূলত সী-ট্রাক বন্ধ রেখে অবৈধ ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপারের সুবিধা নিতে এসব করছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সিন্ডিকেট দমনে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে বর্ষা মৌসুমে নিরাপদ যাত্রী চলাচল নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন