
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে—চলো যাই গ্রাম আদালতে” হাতিয়া উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প’-এর আওতায় দুইদিনব্যাপী গ্রাম আদালত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে (২৭ মে) উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন।বলেন, “গ্রাম আদালতকে সক্রিয় ও কার্যকর করতে পারলেই গ্রাম পর্যায়ে শান্তি, সুবিচার ও সামাজিক স্থিতি নিশ্চিত করা যাবে। এই লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে ইউপি সদস্যরা স্থানীয় বিরোধের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
প্রশিক্ষণে সুখচর, চরকিং ও চরইশ্বর—এই তিন ইউনিয়নের ৩৬ জন ইউপি সদস্য অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ সঞ্চালনা করেন উপজেলা গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী মো. আশরাফ উদ্দিন; প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন ইউআরটি-র (ইউনিয়ন রিসোর্স টিম) তিনজন প্রশিক্ষক। উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া থানার অফিসার-ইন-চার্জ এ.কে.এম. আজমল হুদা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রমুখ।
প্রশিক্ষণসূচিতে গ্রাম আদালত আইন ২০০৬, সংশোধিত আইন ২০১৩ ও সর্বশেষ সংশোধনী ২০২৪-এর আলোকে গ্রাম আদালতের কাঠামো, বিচারিক ক্ষমতা, কার্যক্রম পরিচালনা-পদ্ধতি এবং নাগরিক সুফিদসমূহ তুলে ধরা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে অনুশীলন, রোল-প্লে, কেস-স্টাডি ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে বাস্তব প্রেক্ষাপটে সমস্যার সমাধান কৌশল শেখানো হচ্ছে।বাকি আটটি ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের জন্য একই ধরনের দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ আগামী ২৯ মে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য—গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, টেকসই ও জনবান্ধব করে তোলা, যাতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী অল্প সময় ও ব্যয়ে ন্যায়বিচার লাভ করতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :