
স্টাফ রিপোর্টার, সোনাইমুড়ি : সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে অবশেষে মাঠে নেমেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (৪ জুলাই) থেকে চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযানে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চাটখিল-সোনাইমুড়ী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
যৌথ বাহিনীর এই অভিযান চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর অপরাধ দমনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত এই উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে এবং পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আশাবাদী।
অভিযানের অংশ হিসেবে চাটখিল বাজার, সোনাইমুড়ী চৌরাস্তা এবং বাইপাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়। প্রতিটি যানবাহন ও পথচারীর গতিবিধি কঠোর নজরদারিতে আনা হয়। সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি এবং যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। আটককৃতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধী চক্রের মূল হোতাদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে এলাকাবাসী। স্থানীয় একজন দোকানদার বলেন, আগে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে ভয় লাগতো। আমাদের আশা, এই অভিযানের পর পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন অভিযান নিয়মিত হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।
আপনার মতামত লিখুন :