প্রকাশিত: 29 September, 2024
সর্বশেষ আপডেট : 29 September, 2024

সোনাইমুড়ীতে আ.লীগ নেতার বাড়িতে আগুন, ভয়ে এলাকাছাড়া পরিবারের সবাই

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দুপুরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরেই দেশের অনেক সরকারি স্থাপনা, থানা সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বসতঘরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে একটি চক্র। তারই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট রাতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয় সোনাইমুড়ীর ১০ নং আমিশাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী নজরুল ইসলামের বসতঘরে। একপর্যায়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুরো বাড়ি।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ৫ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে একদল সন্ত্রাসী এই হামলা চালায়। তারা সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে মিছিল নিয়ে বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে হামলা ও লুটপাট চালাতে থাকে। লুট শেষে বসতঘর ও আসবাবপত্রে আগুন লাগিয়ে দেয়। চোখের সামনে ফ্রিজ, টিভি, খাট, সোফা, চেয়ার-টেবিল আলমারি সহ সকল কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় বসত বাড়ি।

অবঃ সেনা সদস্য মোঃ মোবারক উল্যা হচ্ছেন নজরুল ইসলামের বাবা। ঘটনার দিন তিনি পরিবারের সাথে বাড়িতেই ছিলেন। তিনিও সন্ত্রাসীদের হাতে মারধোর ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। সেই রাতের বর্ণনায় মোবারক উল্যা বলেন, রাত সাড়ে নয়টায় সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে প্রবেশ করে। প্রচন্ড শব্দে ও ভয়ে বাড়ির মহিলা ও শিশুরা চিৎকার করতে থাকে। সন্ত্রাসীরা বসত ঘরে ঢুকে সবাইকে মারধোর করে বাইরে বের করে দেয়। পরে ঘরের মূল্যবান জিনিস পত্র লুটপাট চালাতে থাকে। লুট শেষে পুরো ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়-‘তোরা সবাই এলাকায় ছেড়ে চলে যা এই এলাকায় আর যেন আর না দেখি। এলাকায় আসলে নজরুলকে ও তোদের হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দেবো।’

বিএনপি-জামায়াত ও শিবিরের সদস্যরা সম্মিলিত ভাবে এই হামলা করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী গাজী নজরুল ইসলামের। তিনি বলেন, ৫ই আগষ্ট রাত সাড়ে নয়টার দিকে হামলা চালানো হয় তার বসত ঘরে। পরিবারের নিরীহ নারী-শিশুদের মারধোর করে বেরকরে দিয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এসময় সকল আসবাবপত্র পুড়ে যায়। কোন রকমে প্রানে বাঁচে বাড়ির সদস্যরা।

তিনি জানান, আমিশাপাড়া ইউনিয়নের শিবির ক্যাডার আশরাফ আহম্মেদ, সাইদুর রহমান রাফি, স্বেচ্ছোসেবক দলের নেতা কালা জাহাঙ্গীর, যুবদল নেতা মাসুদ, লিটন, রায়হান, বিএনপি ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন মিরন, মনির সহ প্রায় ৭০-৮০ জন মিলে এই ধ্বংসজজ্ঞ চালায়। বর্তমানে পরিবারের সকলে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এলাকা ছাড়া হয়ে সকলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর প্রাণের ভয়ে থানায় অভিযোগ কিংবা মামলা করতে পারছেননা তিনি।

আরও পড়ুন