প্রকাশিত: 12 October, 2024
সর্বশেষ আপডেট : 12 October, 2024

আজ মধ্যরাত থেকে বন্ধ হচ্ছে নদীতে সবধরনের মাছ ধরা

oppo_2

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় আজ মধ্যরাত (১২ অক্টোবর) থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত (২২ দিন) নদীতে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে এবং একইসাথে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সূর্যমুখী, দানারদোল, নিঝুম দ্বীপ, জাহাজমারা, চেয়ারম্যান ঘাট, পাইতানঘাট এবং চরচেঙ্গা মৎস্য ঘাটসহ সব ঘাটে জেলেরা জাল-নৌকা কূলে উঠিয়ে আনতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বোটের তলায় তৈল লাগিয়ে তা নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কেউবা তাদের জালসমূহ বাগানের উম্মুক্ত জায়গায় রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন পরবর্তী মৌসুমের জন্য। সবমিলিয়ে মৎস্য ঘাটগুলোতে মালিক-জেলেদের ব্যস্ততায় সময় কাটাতে দেখা গেছে শনিবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে।

সেই সঙ্গে মৎস্য আহরণকারীদের অনেকে হতাশা প্রকাশ করতেও দেখা গেছে যে, পরিবারের ভরন-পোষণসহ নানান প্রয়োজন মিটবে কী করে? নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি তারা আর্থিক সহায়তারও দাবি জানান।

উপজেলার সূর্যমুখী ঘাটের মোস্তফা মাঝি বলেন, আমরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি। অভাব-অনটনে কেউ কেউ ভুলও করে থাকে । ২২ দিন মাছ ধরতে পারবো না কিন্তু পরিবার নিয়ে কিভাবে দিন কাটে, সেই খবর কেউ রাখে না। আমাদের যে চাল দেয়, তা দিয়ে তেমন কিছুই হয় না। চালের সাথে যে আনুষাঙ্গিক জিনিস লাগে, সেই খরচ কিভাবে পাবো।

ফয়সাল নামের এক জেলে বলেন, এ বছর মাছ খুব কম পাওয়া গেছে, মালিকপক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাল থেকে নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা এখন জালগুলো গুটি ফেলছি।

চরচেঙ্গা মৎস্য ঘাটের আলাউদ্দিন মাঝি বলেন, ধারদেনা আর কিস্তির টাকা নিয়ে আমাদের চলতে হয়। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারি না। যার কারণে আমাদের অনেক জেলে বাধ্য হয়েই নদীতে নামে। তাছাড়া সরকারি সহায়তা প্রায়ই প্রকৃত জেলেরা পায়না বলেও অভিযোগ জানান তিনি।

এদিকে সূর্যমুখী ঘাটের গদির মালিক, আশরাফ মিয়া, আজিম, ও নোমান মিয়ার সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে পরিমাণ দাদন দেওয়া হয়েছে সে পরিমাণ সুবিধা করা যায়নি। এমনকি নিজেদের বোটেও যে চালান দেওয়া হয়েছে ইলিশ না পাওয়ায় তাতেও লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসব ব্যবসায়ী।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ও বাস্তবায়নে হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসান জানান, আমরা নিয়মিত প্রচারণা করে যাচ্ছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন