প্রকাশিত: 30 December, 2024
সর্বশেষ আপডেট : 30 December, 2024

কার হাতে যাচ্ছে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব?

মো. আসাদুল্যাহ মিলটন : কার হাতে যাচ্ছে নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেতৃত্ব? এ নিয়ে জেলাব্যাপী চলছে নানা গুঞ্জন। আলোচনা-সমালোচনা আর গুঞ্জনের মাঝে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ নানা মাধ্যমে গাইছেন নানা স্তুতি। গত শুক্রবার থেকে অনুসারীদের কেউ কেউ দলীয় প্যাডে নিজের পছন্দের নেতার নামসহ তালিকা দিয়ে জানাচ্ছেন অভিনন্দনও।
এদিকে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে যাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে তারা হলেনÑ জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান, সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবিএম জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদ, জেলা বিএনপির সদস্য মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি এজেডএম গোলাম হায়দার বিএসসি এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম কিরণের নাম।
কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো মতামত বা পূর্ণাঙ্গ কমিটির চিঠি না আসায় এখনো প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ রয়েছে কে হচ্ছেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির কাপ্তান? এছাড়া কত সদস্যের কমিটি হবে? আহ্বায়ক কমিটি না পূর্ণাঙ্গ কমিটি? আহ্বায়ক কমিটি হলে কে হবেন আহ্বায়ক? কে হবেন যুগ্ম আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিব? নাকি আহ্বায়ক ছাড়া বাকিরা সদস্য হবেন? এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে আলোচনা আর গুঞ্জনে সরব জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে নেতাকর্মী-সমর্থকদের নানা আলোচনায় সম্ভাব্য আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে আলোচিত হচ্ছে অনেকেরই নাম।
জানা যায়, জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৭ সালের মে মাসে। তখন দলের সভাপতির দায়িত্ব পান এজেডএম গোলাম হায়দার। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় এডভোকেট আবদুর রহমানকে। দুই বছরমেয়াদি ওই কমিটিরও মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। এরপর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে কমিটি পুনর্গঠন নিয়েও তেমন আলোচনা ছিল না। কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। দলের দায়িত্ব পেতে আগ্রহী সিনিয়র নেতারাও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা কাছের লোকজনের মাধ্যমেও দলে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নেতৃত্বে আসার চেষ্টায় জেলায় বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী নেতারা যখন সক্রিয় হয়ে ওঠেন, তখন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দলের কেন্দ্রীয় নেতা, যাদের বাড়ি এ জেলায় তারা চান তাদের পছন্দের ব্যক্তিরা জেলায় দলের দায়িত্বে আসুক। এ নিয়ে কোনো কোনো কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে স্থানীয় নেতার দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও শীতলতা লক্ষ্যণীয়। তবে তা সামগ্রিকভাবে দলের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলে মন্তব্য করেন অনেকেই।
অনেকেই মন্তব্যে বলেন, আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও সেটিকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আবেগে কিংবা কারো পছন্দের ব্যক্তিকে দলের দায়িত্ব না দিয়ে সামগ্রিকভাবে ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ব্যক্তিকে দলের দায়িত্ব দেয়া উচিত। তা না হলে তার প্রভাব পড়বে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি গঠনেও। তাই তারা চান দায়িত্বশীল ও কর্মীবান্ধব নেতাদের যেন আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান দেয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাই (ভিপি আরাম) গতকাল সোমবার বলেন, বিএনপির জেলা কমিটি ঘোষণা করা অতীব জরুরি। হোক সেটা আহ্বায়ক কমিটি। ওই কমিটির নেতৃত্বে স্বল্পসময়ের মধ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ভিপি আরাম বলেন, ‘গত শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব কমিটির নাম প্রচার করা হচ্ছে, এর সবই ভুয়া এবং ভিত্তিহীন। এক শ্রেণির কর্মী তাদের পছন্দের নেতাকে খুশি করতে এসব প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো নেতাও কর্মীদের দিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করাচ্ছেন। যা দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
জেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। ভিত্তিহীন এবং উদ্ভট বিষয়ে কান না দিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকার জন্য নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন