প্রকাশিত: 13 February, 2025
সর্বশেষ আপডেট : 13 February, 2025

পালিয়ে থেকেও রক্ষা হয়নি মিজানুরের ঘর-বাড়ি, আতংকে পরিবারের সদস্যরা

উপজেলা প্রতিনিধি, কবিরহাট ; কবিরহাটে  ৫ আগষ্টের পর জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে থেকেও ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও হামলা থেকে রক্ষা পাইনি বসত ঘর ও পরিবারের সদস্যরা। সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণকে কেন্দ্র করে ৪ ফেব্রুয়ারী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় জেলাতেও কয়েকটি ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটে। তবে ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা পালিয়ে যাওয়ার পর সারাদেশে তান্ডব দেখে জীবন রক্ষার্থে ঘা ডাকা দেন কবিরহাট উপজেলার ২নং সুন্দলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

কবিরহাট উপজেলার ২নং সুন্দলপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের মিজানুর রহমানের বাড়িতে গত ৫আগষ্ট বিকালে ভাংচুর করে বাড়িতে থাকা বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী সন্তানদের মারধর করে গুরত্বর আহত করে এবং মিজানুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হসপিটালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে মিজানুর রহমান পালিয়ে থাকলেও বাড়িতে ফিরো যান তার বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী সন্তানরা। কিছুদিন একটু ভালো থাকলেও ঘটনার ছয় মাস পর ৪ ফেব্রুয়ারী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি  গুড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় আবারো ৯ ফেব্রুয়ারী একই ভাবে মিজানুর রহমানের বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে দূর্বত্তরা। এসময় ঘরে অবস্থানরত বৃদ্ধ মা গুরত্বর আহত হয়।

এমতবস্থায় জীবনের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ব্যাক্তির ধারে ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মিজানুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় ব্যাক্তিরা জানান, মিজানুর রহমান আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি থাকাকালীন এলাকায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের সব সময় উপকার করেছে। এমনকি বিগত সরকারের আমালে এলাকার সর্বস্তরের লোকজনকে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। এমনকি তার আচরণে সে আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি কখনোই প্রকাশ পেতোনা। কিন্তু সরকার পতনের পর মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের সাথে যা হয়েছে তা জঘর্ন্য অন্যায় হয়েছে। স্থানীয়রা আরো জানান, কোন দোষ না করেও আজ জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে বেড়ানো মিজানুর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও বার বার হেনেস্তার শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রাজনৈতিক নেতা জানান, মিজানুর রহমান যদিও যুবলীগের সভাপতি ছিলেন, কিন্তু এলাকায় কখনো সে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের কখনো ক্ষতি করেনি বরং সব সময় সহযোগিতা করতো। কিন্তু ৫ আগষ্ট ও পরবর্তী সময়ে তার বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনায় আমরা নিজেরাও মর্মাহত হয়েছি এবং চেষ্টা করেছি তার পরিবারের লোকদের সহযোগিতা করতে। আরেক প্রশ্নে জবাবে তিনি জানান কেবা কাহারা পুনরায়  ফেব্রুয়ারী এই হামলা করেছে তা আমার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং তার পরিবারের উপর যাতে আর কোন হামলা বা ভাংচুরের ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে উপরস্থ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন