
হুমায়ুন জহীর স্মৃতি বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৪ খ্রি: এর ৩৪-তম বৃত্তি ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারী-২০২৫ খ্রি: বুধবার নোয়া কনভেনশন সেন্টার, দত্ত বাড়ির মোড়, দত্তের হাট, নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হয়। পুরস্কার গ্রহনের জন্য মেয়ের সাথে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে অনুষ্ঠানে যোগদান করলাম। এবার ৬৪৫০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে এবং ৪৫৫ জন বৃত্তি লাভ করে। যারা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলো তারা ক্রেস্ট+সার্টিফিকেট+টাকা এবং যারা সাধারন বৃত্তি পেল তারা সার্টিফিকেট+টাকা পেল। অনুষ্ঠানে মিনিমাম ১০০০-১২০০ জন ছাত্র/ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও আয়োজকদের সামনে থেকে যখন কোন ছাত্র/ছাত্রী পুরস্কার গ্রহন করে তখন শুধু ছাত্র/ছাত্রী নয় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আর এটাই হচ্ছে আমাদের চাওয়া। যেভাবেই হোক ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাকদের স্বপ্ন দেখাতে হবে।যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে করতে একসময় বাংলাদেশ তার স্বপ্নের পথে হাটতে থাকবে। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ধারাবাহিক পরীক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ের এবং স্বপ্ন দেখানোর জন্য যে গুরূ দায়িত্ব পালন করে আসছে তা সত্যিই অভূতপূর্ব।হুমায়ুন জহির বৃত্তির মতো আরো কিছু বেসরকারী বৃত্তি যদি সারা বছর যদি পরিচালিত হয় তবে দেশের মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী তাদের অর্থনেতিক সমস্যা এবং ভবিষ্যত জীবন নিয়ে অনেক বেশী সিরিয়াস হতো এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ,পরিবারের ,গ্রামের ,জেলার এবং দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে নিজের অবদান রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখতো।
শিক্ষার গুনগত মান পরিবর্তনে বেসরকারী বৃত্তির ভূমিকা: শিক্ষার প্রতি ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের আগ্রহের অবস্থান আতুড় ঘর থেকে বের করে এনে আবার পড়ার টেবিলে আনার জন্য যতগুলো শিক্ষা সহায়ক সংগঠন কাজ করছে তার মধ্যে হুমায়ুন জহির বৃত্তি অন্যতম। বর্তমানে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সাথে পড়ালেখার যে যোজন যোজন দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা কমিয়ে আনার জন্য শুধু ছাত্র ছাত্রীকে মোটিভেট করলে হবে না ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকদেরকেও মোটিভেশন দিতে হবে। ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মনে পূর্বের মত বিশ্বাস নিয়ে আসতে হবে যে লেখাপড়া করে মানুষ হওয়া যায়, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্মানের ব্যবস্থা করা যায়। মোবাইল, ইন্টারনেট, করোনা, স্কুল ভীতি, শিক্ষক ভীতি, সামাজিক অবক্ষয় ইত্যাদি নানান কারণে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্য হুমায়ুন জহির বৃত্তির মত প্রতিবছর আরো অনেক সংগঠনকে কে অর্থ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীকে পুরস্কার দিলে হবে না ছাত্র ছাত্রীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও খুশি করতে হবে।কোন ছাত্র/ছাত্রীকে বৃত্তির জন্য যখন টাকা ও সার্টিফিকেট দেয়া হবে সেই সময় ওই ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবককেও সবার সামনে এনে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করতে হবে।
এভাবে যদি আমরা সারা বছরই বিভিন্ন বৃত্তির মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে টাকা ও সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারি এবং অভিভাবকদের সামাজিক ভাবে সম্মানিত করা করতে পারি তাহলেই আস্তে আস্তে ছাত্র/ছাত্রী পড়ার টেবিলে বসবে আর অভিভাবক তার সন্তানকে নিয়ে গর্ববোধ করবে এবং সন্তানের লেখাপড়ার ব্যপারে আরো সচেস্ট হবে। একটা জাতিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই শিক্ষাকে উন্নতির পর্যায়ে নেয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে নার্সিং করতে হবে এবং সন্তানকে স্বপ্ন দেখাতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি নির্ভর, গবেষনা নির্ভর জ্ঞান নিয়ে বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে ঠিক তখনই বাংলাদেশ হাটছে সম্পূর্ণ উল্টা পথে।করোনার ভয়াল থাবার পর থেকে এখন পযন্ত বাংলাদেশ লেখাপড়ার মান উন্নয়নের জন্য কোন ধরনের বড় কোন প্রকল্প চোখে পড়ছে না যা দ্বারা দেশে শিক্ষার গুনগত মান পরিবর্তিত হবে।যতই দিন যাচ্ছে চারপাশে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য সবার হাহাকার কিন্তু জ্ঞান আহরনের জন্য কোন ধরনের আকুলতা কোন ধরনের ব্যাকুলতা কারো মধ্যে কাজ করে না। ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকদের মাঝে যখন নতুন আশার সঞ্চার হবে ,নতুন স্বপ্নের বীজ বোনা হবে তখনই দেশ ছুটতে থাকবে তার সর্বোচ্চ গতি নিয়ে।সে দিন আর দুরে নয় যখন আমাদের সন্তানরা লেখাপড়ায় ও গবেষনায় পৃথিবীর যেকোন দেশের সাথে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে র্যাঙ্কিংয়ে ১ থেকে ১০ এর মধ্যে থাকবে। সেই দিনের অপেক্ষায় এবং সেই দিনের স্বপ্ন দেখানোর জন্য হুমায়ুন জহির এর মতো আরো অনেক শিক্ষার আলো এই সমাজে এই দেশে বড্ড প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :