
মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : সোনাইমুড়ীতে ভাতিজার মারধরে চাচার মৃত্যুর ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি থানায়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ মামলা নিতে তালবাহানা করছে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ। ঘটনার পর থেকে থানা চত্বরে মামলার জন্য ঘুরছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এদিকে মারধরের ঘটনায় ইয়াকুব নবী(৬৫) এর মৃত্যুকে হার্ট অ্যাটাক বলে গণমাধ্যমে তথ্য দিয়েছেন সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।
জানা যায়, রবিবার (৬ এপ্রিল) উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের মাওতলা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিভেদের জেরে ভাতিজা সাহ-আলমের মারধরের একপর্যায়ে গলাটিপে ধরলে চাচা ইয়াকুব নবীর মৃত্যু হয়। নিহত ইয়াকুব নবী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের মাহুতলা গ্রামের মৃত মুকবুল আহাম্মদের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত হামলাকারী ভাতিজা একই বাড়ির নূর নবীর ছেলে সাহ আলম।
সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকালে মাহুতলা গ্রামে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
নিহত ইয়াকুব নবীর ছেলে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বৃদ্ধা ইয়াকুব নবীর এক খন্ড জমি নিয়ে একই বাড়ির শাহ আলমদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এক পর্যায়ে ওই বিরোধ নিয়ে শালিস বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শাহ আলম রোববার বিকালে একই বাড়ির অভি, রুবেল, আনোয়ার, রতনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী নিয়ে আমাদের ওই জমি জোরপূর্বক দখল করতে গেলে বাঁধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা আমার বাবা এবং আমাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা গলা ও বুকে আঘাত করলে আমার বাবা ইয়াকুব নবী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এই ঘটনায় মামলা নিচ্ছেনা পুলিশ। ঘটনার রাতে সোনাইমুড়ী থানাতে গেলেও তারা আমাদের কথায় কোন গুরুত্ব দেয়নি।
নিহতের মেয়ে সুমি বেগম বলেন, এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও গলাটিপে বাবাকে খুন করা হয়। পরবর্তীতে আমরা থানায় মামলা দিলেও পুলিশ আমাদের মামলা নিচ্ছেন না। পুলিশ বলছে আমার বাবা হার্ট এট্যাক করে মারা গেছে। কোন ধরনের তদন্ত ছাড়াই আমরা থানায় যাওয়ার সাথে পুলিশ হার্ট এ্যাটাকের গল্প শুনিয়েছে। (মঙ্গলবার ৮ এপ্রিল) সকাল থেকে মামলা করার জন্য থানার সমানে বসে রয়েছি। ওসি নেই এই অজুহাতে মামলা নেয়নি পুলিশ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে দেন দরবার চলছে।
এদিকে, শাহ আলমসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে গেলেও তার গ্রামের বাড়িটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
সোনাইমুড়ী থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলমকে পাওয়া যায়নি। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মনির হোসেন। এই বিষয়ে মনির হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে ইয়াকুব নবী হার্ট অ্যাটাক করে মারা গিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে, এসব বিষয়ে পরেও মামলা দেওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :