প্রকাশিত: 9 April, 2025
সর্বশেষ আপডেট : 9 April, 2025

হাতিয়ায় উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : আমরা কতু হারবো না-ভাসানচর ছাড়বো না, ভাসানচরের মাটি-হাতিয়াবাসীর ঘাঁটি, ভাসানচর কার হাতিয়ার হাতিয়ার, স্লোগানে মুখরিত হাতিয়ার জনপথ।

ভাসানচর দখলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সন্দ্বীপবাসীর ভূমিকা নিয়ে উদ্ভূত বিতর্ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা জড়িত থাকা, উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের পদত্যাগের দাবিতে হাতিয়ায় বিক্ষোভ। প্রতিবাদ সভা ও অবস্থান ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার, ছাত্রছাত্রী, জনসাধারণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।নোয়াখালী হাতিয়া দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত ভাষানচরের মালিকানা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে হাতিয়াবাসী।
এর আগে মঙ্গলবার থেকে চলা অবস্থান ধর্মঘট রুপ নেয়,পদত্যাগের দাবি, দ্বিতীয় দিন ও উপজেলা সদরের ওছখালি জিরো পয়েন্টে হাতিয়া ভাসানচর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়।

এ সময় হাতিয়া উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক দীর্ঘ সময় বিক্ষোভে উত্তাল, ভাসানচর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরের পদত্যাগ না হাওয়া পযন্ত অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।

বিক্ষুব্ধ জনতা ভাসানচরের উপর অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নানান স্লোগান দিয়ে থাকে। তারা এসময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের পদত্যাগের দাবি করে। এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন হাতিয়া ডিগ্রী কলেজের সহকারি অধ্যাপক আনম শামীম খান, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন, হাতিয়া প্রেস ক্লাবের আহবায়ক জি এম ইব্রাহিম, সাবেক রেডক্রিসেন্ট কর্মকর্তা আজরুল সাফদার, যুবদল নেতা মো. ফাহিম উদ্দিন,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আরেফিন আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

অবস্থান ধর্মঘটে বিক্ষুদ্ধরা বলেন, ভাসানচর একটি মিমাংসীত বিষয়। এটিকে সন্ধীপের সাথে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করে আঞ্চলিক দাঙ্গা লাগানোর উসকানি দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছেন সন্ধীপের বাসিন্দা ও বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্ঠা ফাওজুল কবির খান। যা কোন ভাবে মেনে নেওয়া হবে না। আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করার কারণে এই উপদেষ্ঠার পদত্যাগের দাবি জানানো হয় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।

জানা যায়, হাতিয়া থেকে সন্ধীপ আলাদা হয় ১৯৫৪ সালে। এর পর সাগরে জেগে উঠা নতুন এসব চর জেলার সাথে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভাসানচরের দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে ৬টি মৌজায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই ছয় মৌজার একটি ভাসানচর। পরে হাতিয়া উপজেলাধীন বনবিভাগ ২০০২-২০০৩ সালে বনায়ন সৃজন করে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প হিসেবে ভাসানচরকে হাতিয়া উপজেলার প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্রীয় সকল ধরনের কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

ভাসানচর মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা বাংলাদেশের একটি ছোট্ট দ্বীপ। এটি জেলার হাতিয়া উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়ন এর অন্তর্গত। অবস্থান বঙ্গোপসাগর ২২.৩৮৭৫° উত্তর ৯১.৪১১৫° পূর্ব, আয়তন ২৫ বর্গমাইল (৬৫ বর্গকিলোমিটার) সরকারের এই গেজেট উপেক্ষা করে ভাসানচরকে সন্ধীপের সাথে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হাতিয়া সহ জেলা ও রাজধানীতে ভাসানচর রক্ষা আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন