
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : কয়েকদিন থেকে একটি পোষ্ট ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়। যেখানে চাটখিল উপজেলায় এক গৃহকর্মীর মরদেহ দাফনের তথ্য তুলে ধরা হয়। ওই পোষ্ট ঘিরে নানা আলোচনা চলছে জেলাজুড়ে।
কেউ কেউ ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলছেন। অনেকে এটিকে হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছেন। মূল ঘটনা আসলে কি তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে যেমন আলোচনা চলছে তেমন সচেতন মহলে কৌতুহলের কমতি নেই।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুর তিনটার দিকে নোয়াখালী কলেজের এক শিক্ষার্থী এই বিষয়ে তার টাইমলাইনে পোষ্ট দেয়। পরবর্তীতে একই ঘটনা নিয়ে আরো দুটি পোষ্ট করেন তিনি। ওই শিক্ষার্থী তার প্রথম পোষ্টে লেখেন, চাটখিলের উত্তর রামনারায়ণপুরের মাইঝের বাড়িতে গতকাল ১৫/১৬ বছর বয়সী একটি মেয়ের লাশ দাফন করা হয়েছে। মেয়ের বাড়ি ময়মনসিংহ। মেয়েটি ওই বাড়ির একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো চট্রগ্রামে। উনারা ভীষণ সম্ভ্রান্ত পরিবার যেখানে সে কাজ করতো। ওই পরিবারের লোকজন ও
এলাকাবাসী থেকে যতটুকু শুনলাম, মেয়েটা নাকি মৃগী রোগী ছিলো আর ইলেক্ট্রিক শকে মারা গেছে।
এখন প্রশ্ন ময়মনসিংহের এই মেয়েকে চাটখিলে এনে কেনো দাফন করা হয়েছে?
মেয়ের পরিবারের কেউ আসেনি কেনো? এইটাও অভিযোগ আছে এই মেয়েকে রাতারাতি না জানিয়ে দাফন করার চেষ্টা ও চলেছে। লাশটি এম্বুল্যান্স না এসে নিজস্ব গাড়ির ডিকিতে করে কেনো আনা হয়েছে? সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন পোষ্টকারী।
পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু পোষ্টটি তুলে ধরা হলো-“আমি যে ঘটনাটি লিখছি তা আমার জন্য ভীষণ রিস্ক তবুও চাই সুষ্ঠ তদন্ত হোক। চাটখিলের উত্তর রামনারায়নপুরের মাইঝের বাড়িতে গতকাল ১৫/১৬ বয়সী একটি মেয়ের লাশ দাফন করা হয়েছে।মেয়ের বাড়ি ময়মনসিংহ। মেয়েটি উক্ত বাড়ির একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো চট্রগ্রামে। উনারা ভীষণ সম্ভ্রান্ত পরিবার যেখানে সে কাজ করতো।
ঐ পরিবারের ভাষ্যমতে এলাকাবাসী থেকে যতটুকু শুনলাম, মেয়েটা নাকি মৃগী রুগী ছিলো আর ইলেক্ট্রিক শটে মারা গেছে। এখন প্রশ্ন ময়মনসিংহের এই মেয়েকে চাটখিলে এনে কেনো দা*ফন করা হয়েছে? মেয়ের পরিবারের কেউ আসেনি কেনো?
এইটাও অভিযোগ আছে এই মেয়েকে রাতারাতি না জানিয়ে দাফ*ন করার চেষ্টা ও চলেছে,ব্যাপারটা আমি নিশ্চিত নই।আপনারা কাইন্ডলি ঐ এরিয়ার কেউ থাকলে সত্তিটা উল্লেখ করবেন। এবং লাশ এম্বুল্যান্স না এসে গাড়ির ডিকিতে করে কেনো আনা হয়েছে? এইটা কেমন কাজ হলো?
গরীবেও তো লাশ এম্বুল্যান্স এ আনে।খটকা লাগে এইখানে। এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানতে চাই। পোস্টটি শেয়ার দিবেন বিবেকের তাগিদে।” এই পোষ্টটি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও সমাজসচেতন ব্যক্তিদের আইডি থেকে শেয়ার করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা এই পোষ্টে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন।
এর মধ্যে এক সাংবাদিক মন্তব্য করেছেন যে, তিনি স্পটে গিয়েছিলেন তবে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে মুখ খোলেনি। অনেকে মন্তব্য করেছেন, দাফন করা মেয়েটি একটি প্রভাবশালী ব্যক্তির গৃহকর্মী হওয়ায় এখানে টাকার কাছে অনেকে বিক্রি হইছে। যার কারনে কেউ মুখ খুলছে না।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ঘটনা স্থলে গেলেও এর রহস্য এখনো জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়নি। এমনকি থানা পুলিশ এই লাশ দাফনের বিষয়ে অবগত নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :