
মোহাম্মদ হানিফ, নিজস্ব প্রতিনিধি : বেগমগঞ্জ চৌমুহনী বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বুধবার (১১ জুন) সকাল ৯টা থেকে এক যৌথ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ। এই সমন্বিত পদক্ষেপে যানজট কবলিত জনজীবনে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত একটি টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জোর দাবি জানিয়েছেন।
চৌমুহনী বাজার, যা ফেনী রোড এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীবাসীর কাছে এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। বিশেষ করে ফেনী কাছারিবাড়ী থেকে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা পর্যন্ত নিত্যদিনের যানজট ছিল অসহনীয়। ফুটপাত দখল করে বসা হকার এবং যত্রতত্র অটো-রিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল এই যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছিল। বিকেলে সবজি, মাছ ও ফলের বাজার বসার কারণে বাজারের ভেতরের অবস্থাও এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়ত যে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করতে হতো।
সকাল থেকে সেনাবাহিনী ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একযোগে কাজ করছেন। তাদের এই সম্মিলিত উপস্থিতিতে যানজটের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। অভিযান শুরুর পর থেকে যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে যানবাহনের গতি বেড়েছে এবং অবৈধ পার্কিং ও হকারদের তৎপরতা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “একদিন অভিযান চালিয়ে চলে গেলে পরের দিন আবার যেই লাউ সেই কদু। যদি অন্তত এক সপ্তাহ সেনাবাহিনী এভাবে অভিযান অব্যাহত রাখে, তাহলে বেগমগঞ্জ চৌমুহনী বাজার দিয়ে বয়ে যাওয়া ফেনী রোডের যানজট নিরসন হবে। নইলে এই অভিযান কোনো কাজে দেবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, অটো-রিকশাগুলোকে যেন ফেনী কাছারিবাড়ী থেকে বেগমগঞ্জ পর্যন্ত চলতে না দেওয়া হয় এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদেরও স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়।
নোয়াখালীবাসী দীর্ঘকাল ধরে এই যানজট সমস্যায় জর্জরিত। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশকে এই উদ্যোগের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে, তারা আশা করেন যে এই অভিযান কেবল সাময়িক স্বস্তি দেবে না, বরং প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যানজট নিরসনে একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক নির্মাণের মতো পদক্ষেপগুলো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা, যৌথবাহিনী অন্তত দিনে দুবার টহল অব্যাহত রাখলে এই যানজট থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি মিলবে।
জনগণের প্রত্যাশা, সেনাবাহিনী ও পুলিশের এই বিশেষ যৌথ অভিযান শুধু একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হয়ে থাকবে না, বরং বেগমগঞ্জ চৌমুহনীর যানজট নিরসনে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার পথ প্রশস্ত করবে।
আপনার মতামত লিখুন :