
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : হাতিয়ায় রোগী পরিবহনের জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত একমাত্র নৌঅ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জরুরি সেবাদানের এই গুরুত্বপূর্ণ যানটি বর্তমানে নিজেই ‘রোগী’ হয়ে আছে। ফলে দ্বীপের সাধারণ মানুষকে জীবনঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোট, ট্রলার কিংবা নৌকায় করে চিকিৎসা নিতে পাড়ি জমাতে হচ্ছে জেলা সদর বা নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার যৌথ সহযোগিতায় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নৌঅ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করা হয়। তবে কিছুদিন চালু থাকার পর থেকেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে এটি বিকল হয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পরিত্যক্তভাবে পড়ে আছে, যা ঘূর্ণিঝড় বা জোয়ারের সময় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিপু খলজি বলেন, “এর আগেও হাতিয়ায় কয়েকবার নৌঅ্যাম্বুলেন্স চালু হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন পরপরই নানান অজুহাতে তা বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
নলচিরা ঘাটের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, হাতিয়া থেকে একাধিক মুমূর্ষু রোগীকে ট্রলারে করে নোয়াখালী পাঠাতে গিয়ে মাঝপথেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। নৌঅ্যাম্বুলেন্সটি যদি সচল থাকত, হয়তো অনেক প্রাণ রক্ষা পেত।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (UHC) জুলাই ২০২৪-এর অপারেশনাল প্লান পরিকল্পনার আওতায় চালক নিয়োগ না হওয়া, জ্বালানি বরাদ্দ না থাকা এবং ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে নৌঅ্যাম্বুলেন্সটি সচল রাখা যাচ্ছে না। আমরা বিষয়টি মেরামতের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেছি।”
দ্বীপবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য নৌঅ্যাম্বুলেন্স অত্যন্ত জরুরি। তাই এটি দ্রুত মেরামত ও পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে চালু করা হোক। একইসঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :