
উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর : জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় মাজার পূজারীদের দ্বারা পরিকল্পিত ভাবে মাজার তৈরির অংশ হিসাবে পুরাতন কবর থেকে লাশ উত্তোলনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মসুল্লিরা।
ঘটনাটি সংগঠিত হয়েছে সুবর্ণচর উপজেলার ৫নং চর জুবিলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চর মহিউদ্দিন বাজারের পাশে।
সরিজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় জামশেদের ডাক্তারের পিতা ডাঃ জহির উদ্দীন প্রকাশ আল চরণদ্বীপী আল খায়রুল বাশার মাইজভান্ডারী নয়মাস পূর্বে মারা যান, তখন তাকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পাশে কবর পাকা করে মাঠি দেন।
কিন্তু হুট করে তার সন্তানরা দীর্ঘ নয়মাস পরে প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে কবর থেকে তার লাশ উত্তোলন করে এবং প্রচার করতে থাকে, তাদের বাবার লাশ আল্লাহর হুকুমে এখনো পুরোপুরি অক্ষত,তার কবর থেকে নাকি সুগন্ধ বের হচ্ছে!! এবং এটা আল্লাহর প্রিয় বান্দার নিদর্শন।
স্থানীয় সাংবাদিক ইমাম উদ্দিন সুমন বিষয়টি সর্বপ্রথম সবার সামনে নিয়ে আসেন।তিনি তার ফেসবুকে লাশ উত্তোলনের পর ভিডিও দিয়ে ফেসবুকে লিখেন,”সুবহান্নাল্লাহ দীর্ঘ ৯মাস ১৩দিন পরও মৃত ব্যক্তির লাশ অক্ষত,তিনি মাইজভান্ডারী তরিকার লোক ছিলেন, পরিবারের সদস্যরা জানান তারা দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্নে দেখছেন, মৃত ব্যক্তিটি কবরে নামাজ পড়তে পারছেন না, কবরে অতিরিক্ত পানি। একে একে পরিবারের সকলে স্বপ্নে দেখেন। তাই সকলের পরামর্শে লাশ তুলতে গিয়ে দেখেন করবে পানির ওপর লাশ ভাসছে। তারপর অন্যত্র কবরস্থ করা হয়। “”
তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরে সুবর্ণচরের সাধারণ মানুষ এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সুবর্ণচরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে নিয়ে এই ধরণের কর্মকান্ডকে মাজার তৈরির চক্রান্ত হিসাবে অভিহিত করেন এবং এই ধরণের ইসলাম বিদ্বেষী কাজের প্রতিবাদে গতকাল(শুক্রবার)রাতে মহি উদ্দিন বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিল থেকে বক্তারা এই ধরণের কাজ করে যারা সুবর্ণচরে মাজার ভক্তদের আশ্রম বা আড্ডাস্থল বানাতে চান তাদেরকে হুশিয়ারী প্রদান করেন এবং যেকোন মূল্যে এই ধরণের কাজ বন্ধ করে দিবেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার আখতার হোসেন বলেন,কবর থেকে লাশ উত্তোলনের বিষয় আমি পরে শুনেছি।আসলে বিষয়টি খুবই স্পর্ষকাতর, ইসলামে লাশ উত্তোলন করে অন্যত্র কবরস্তের বিধান আছে কিন্তু আমার আমার এলাকার ঘটনাটি সমপূর্ণ ভিন্ন রকম মনে হচ্ছে।কারণ এখানে তার পরিবারের সদস্যরা এটাকে সোস্যাল মিডিয়াতে হাইলাটস করতেছে।এই থেকে বুঝা যায়, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন হতে পারে।
এই বিষয়ে চর জব্বর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন মিয়া বলেন,এই ধরণের লাশ উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কিছু আলেম আমার কাছে এসেছিল,আমি তাদেরকে এইবিষয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসারের সাথে পরামর্শের কথা বলেছি।বাকিটা উনার নির্দেশের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :