• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৮ জুলাই, ২০২৫

ভুলুয়া নদী খনন কেন অপরিহার্য

একসময়ের বিখ্যাত ভুলুয়া নদী বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি- কমলনগর ও নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় বিস্তৃত। ৭১ কি. মি দীর্ঘ ও ৮৫ মি প্রস্থ নদী টি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হয়ে কমলনগর- রামগতি ও সুবর্ণচর উপজেলা দিয়ে মেঘনায় মিলিত হয়েছে। খরস্রোতা নদী এখন পলি জমে ও  দখলদারিত্বের কারণে প্রায় মৃত। একসময়ে নদীটি এ অঞ্চলের কৃষি কাজ, মৎস্য আহরণ ও অন্যান্য কাজের উৎস থাকলেও বর্তমানে মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটু ভারি বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যার ফলে রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক সময় শ্রমিকরা শ্রম হীন হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করে। এ অঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক দুই মৌসুমে ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু গতবছর ২০২৪ সালের আগষ্ট সেপ্টেম্বরে ভারি বৃষ্টিপাত ও ভারতের ঢলের পানির প্রভাবে দুই মাস যাবত মানুষ পানিবন্দি জীবন করেছিল।

মূলত, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের পানি নিস্সারনের একমাত্র উপায় ভুলুয়া নদী। গত বছর বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ করতে না পারায় মানুষ ও গবাদি পশুর ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দেয়। অর্থনৈতিক দুরাবস্থা দিন দিন বেড়ে চলছে।  এ অঞ্চলের মানুষ বহুদিন থেকে বিভিন্ন ভাবে নদী খননের দাবীতে সোচ্চার হলেও কারো কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো নেই। সরকারের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৃন্দ মানুষের গণদাবি যেন এড়িয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পূর্বে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব চৌধুরী এ নদীটি খনন করে দুপাশে পাড় বাঁধেন। নদীর দুপাড়ে রয়েছে মেঘনা নদী ভাঙনে শিকার কয়েক লক্ষ মানুষের বসতি।

এসব মানুষ গুলো অসহায় জীবন যাপন করলেও তাদের পুনর্বাসনের সরকারি কোন উদ্যোগ নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে যত দ্রুত সম্ভব এই নদীটি খনন করার প্রকল্প গ্রহণ করে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার।

লেখক : শামিম ওসমান
সহকারী শিক্ষক, লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

আরও পড়ুন