• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২৫

মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৮

প্রতিনিধি উপজেলার, সুবর্ণচর : সুবর্ণচর উপজেলার ৪নং চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ধানের শীষ গ্রামে আল আমিন সমাজ জামে মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা মানিক ও ভূমিদস্যু ইব্রাহীম ধনু পক্ষের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে সংঘটিত এ হামলায় অন্তত ৮ জন মুসুল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদ দীর্ঘদিন পরিচালনা করে আসছিলেন এক ভূমিদস্যু ইব্রাহিম ধনু সর্দার। তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাভোগ করছেন, তবে তার অনুসারী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাধারণ মুসল্লিদের ভোটে গত ১৮ জুলাই ১৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়। এ সময় প্রায় ১৩৩ জন মুসল্লি রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করে কমিটির পক্ষে মত দেন। তবে ইব্রাহিম ধনু গং নতুন কমিটি মেনে নেয়নি।
শুক্রবার(১৫ আগষ্ট) জুমার নামাজ শেষে ইউনিয়ন যুবদল নেতা মানিক হাসানের নেতৃত্বে বেচু, এছলাম, বাকেরসহ একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে হাতাহাতি শুরু করে। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাধারণ মুসল্লিদের উপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৮ জন আহত হন।

হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়—একজন ভিডিও ধারণ করতে গেলে সন্ত্রাসী বেচু তাকে লাঠি দিয়ে খুব জোরালোভাবে আঘাত করছে। এতে ওই ব্যাক্তি গুরুতরভাবে আহত হয়।

আহত এক মুসল্লি জানান—“গতকাল জুমার নামাজ শেষে আমরা মসজিদে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। আমি গুরুতর আহত হয়েছি এবং আরও অনেকে জখম হয়েছেন। মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগের সভাপতির অনিয়ম ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সাধারণ মুসল্লিরা নতুন কমিটি গঠন করেছিলেন। এতে সুবিধা হারানো পক্ষ প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হামলাকারীরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন