• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৫

এআইয়ের অপব্যবহার: নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন, জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন এবং অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থার কারণে গত বছর ভুয়া ও অপতথ্য ছড়িয়েছে বেশি। এসবের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও এআই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের সাইবার সেল গঠনের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

এআই দিয়ে তৈরি এসব ভিডিও দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি ভুয়া। নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হওয়ার সাথেসাথেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা। ডিপফেইক ভিডিও, ভুয়া অডিও বা সংবাদে সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন লাখো মানুষ।

গবেষণা সংস্থা ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, এ বছরের শুরুর তুলনায় মাঝামাঝিতে ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ানোর হার বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এর মধ্যে রাজনৈতিক গুজবই সর্বাধিক—৪৪ শতাংশ। নির্বাচনকেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য প্রচার বেড়েছে ৮ গুণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের অপব্যবহার নির্বাচনে সহিংসতা উসকে দিতে পারে। তাই তথ্য নিরাপত্তা আইন তৈরি ও প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. বি. এম. মইনুল হোসেন বলেন, ‘মানুষের কণ্ঠ নকল করে, মনে করেন একজন লিডার তার কণ্ঠে একটা ঘোষণা দিয়ে দিল। মানুষ বুঝতেই পারল না এটা আসল নাকি নকল। এটা এআই তৈরি নাকি আসল মানুষ। তখন তো সেটার ওপর ভিত্তি করে তারা পদক্ষেপ নেবে। এতে নানা গলযোগ তৈরি হতে পারে। আমি মনে করি, একটা টেকনিক্যাল সেল থাকা উচিত সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য। আরেকটা সেল থাকা উচিত সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য।’

এআই বট দিয়ে অপপ্রচার ও ভোটারদের তথ্য চুরি নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইসির সাইবার সেলের মাধ্যমে কনটেন্ট যাচাই এবং জনসচেতনতা তৈরি করে ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি বলেন, ‘যে প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাবে, সেগুলো আগেই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভেটিং করাতে হবে। তখন তারা উৎসসহ সবকিছু যাচাই করতে পারবে। যে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট থাকবে, এটাই তাদের মূল দায়িত্ব হবে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে এআই বিষয়ে এখনই কঠোর নীতিমালা ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন