
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : ২০০৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনীতিতেও তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দৃঢ় হতে থাকে। বিএনপি তখন রাজনৈতিকভাবে নানা বাধা-বিপত্তি ও দমনের মুখে পড়ে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমে নেমে আসে এক ধরনের স্থবিরতা। হাতিয়া উপজেলা বিএনপিও এর বাইরে ছিল না। অনেক নেতৃবৃন্দ তখন ভেবে নিয়েছিলেন— আওয়ামী লীগ নাকি ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকবে। ফলে তারা রাজপথ ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রাজনীতির মাঠে যারা আগে ছিলেন সক্রিয়, তাদের অনেকেই তখন নিস্ক্রিয়তায় ডুবে যান।
কিন্তু এমন অন্ধকার সময়ে হাতিয়া উপজেলার বিএনপির হাল ধরেন একজন প্রকৃত সংগ্রামী সৈনিক, একজন সাহসী নাবিক— প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব।
যখন অনেক তথাকথিত নেতা হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন, তখন প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব নিজের স্বচ্ছল ও আরামদায়ক জীবন বিসর্জন দিয়ে নেমে আসেন রাজপথে। তিনি বুঝেছিলেন— রাজনীতি কেবল ক্ষমতার অলংকার নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। তাই হাতিয়ার রাজপথে যখন মিছিল, মিটিং কিংবা আন্দোলন–সংগ্রামের ডাক পড়েছে, রাজীব ছিলেন সবার আগে।
দলের জন্য ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিতে কখনো পিছপা হননি তিনি। তার নেতৃত্বে হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিএনপির কার্যক্রম নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। যেসব কর্মীরা দীর্ঘদিন হতাশায় দিন কাটাচ্ছিলেন, তারা রাজীবের আহ্বানে আবারও দলে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
শুধু নেতৃত্বের দিক থেকে নয় , মানবিক দিক থেকেও রাজীব ছিলেন আলাদা। মামলার হয়রানি, পুলিশি নির্যাতন কিংবা দলীয় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার অসংখ্য তৃণমূল কর্মীর পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে। নিজের অর্থ-সাহায্য, সময় আর পরামর্শ—সবকিছুই তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন কর্মীদের জন্য।
প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীবকে কর্মীরা ডেকে নিতেন একরকম “ভরসার ব্যাংক” হিসেবে। কারণ তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন বন্ধুর মতো। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সহযোগিতা; যেখানে ভয়, সেখানে সাহস; আর যেখানে হতাশা, সেখানে আশ্বাস—এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন হাতিয়া বিএনপির প্রাণভোমরা।
তবে প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীবের এই জনপ্রিয়তা কিছু মহলের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনীতির মাঠে তাকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তথাকথিত “মাইনাস ফর্মূলা” প্রয়োগের চেষ্টা চলে। তাকে ঘিরে নানা বিভ্রান্তি, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো— তৃণমূল কর্মীদের হৃদয়ে যে নাম অঙ্কিত হয়, তাকে কোনো ফর্মূলা দিয়েই মাইনাস করা যায় না। বরং যত বেশি বাধা এসেছে, ততই রাজীবের জনপ্রিয়তা বেড়েছে বহুগুণে। তার প্রতি কর্মীদের ভালোবাসা ও আস্থা দিন দিন “প্লাস ইনটু প্লাস” হয়ে বেড়েই চলেছে।
প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব শুধু নেতা নন, তিনি হাতিয়ার রাজনীতিতে এনেছেন নতুন ধারা। তিনি দেখিয়েছেন— দলীয় সংকটে নির্লিপ্ত থাকলে নয়, বরং কর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকলেই দলের প্রতি আস্থা তৈরি হয়।
তার নেতৃত্বে হাতিয়ার বিএনপি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। মিছিল-সমাবেশ আবার প্রাণ ফিরে পায়। রাজীবের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে শোনা যায় নতুন আশার সুর। তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রতিকূল সময়ে আন্দোলনের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছিলেন, যদিও পরিস্থিতি ছিল কঠিন ও ভয়ংকর।
রাজনীতিতে টিকে থাকার মূল শক্তি হলো জনগণ। প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব তা ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন। তাই তিনি কখনো শুধু দলীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকেননি। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে অংশ নিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা মানবিক সহায়তা—যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, রাজীব নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
এ কারণেই তিনি শুধু বিএনপির নেতা হিসেবেই নয়, হাতিয়ার সাধারণ মানুষের কাছেও একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
প্রকৌশলী রাজীবের রাজনৈতিক সংগ্রাম হাতিয়ার তরুণ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করেছে। যারা আগে রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার খেলা ভেবে নিরুৎসাহিত ছিলেন, তারা রাজীবকে দেখে রাজনীতির প্রকৃত রূপ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। রাজনীতি মানে জনগণের পক্ষে কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সাহসিকতার সাথে অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
রাজীবের নেতৃত্বে হাতিয়ার নতুন প্রজন্মের তরুণরা রাজনীতিতে অংশ নিতে উৎসাহিত হয়েছেন।
হাতিয়া উপজেলা বিএনপির রাজনীতির ইতিহাসে প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীবের ভূমিকা নিঃসন্দেহে অনন্য। প্রতিকূল সময়ে যেভাবে তিনি দলের হাল ধরেছেন, কর্মীদের ভরসার স্থল হয়েছেন এবং রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন—তা ভবিষ্যতে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আজও কিছু মহল তাকে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা চালালেও বাস্তবতা ভিন্ন। তৃণমূল কর্মীদের ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা তাকে করে তুলেছে হাতিয়ার রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাজনীতির ইতিহাসে বলা হয়— প্রকৃত নেতার পরিচয় মেলে সংকটকালে। হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সেই সংকটকালীন সময়েই প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব নিজেকে প্রমাণ করেছেন প্রকৃত নেতৃত্বগুণে। তিনি দেখিয়েছেন— সাহস, ত্যাগ আর কর্মীদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক থাকলেই রাজনীতিতে টিকে থাকা যায়, জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায়।
তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির রাজনীতির এক অধ্যায় হলো প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীবের সংগ্রামী পথচলা—যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :