
সিরিজ আগেই নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ শেষ ওয়ানডেতে সুযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাঠে প্রথমবার ধবলধোলই করার। তবে সেটি সম্ভব করা কঠিনই ছিল। তিন সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকদের দেওয়া ৪৩২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ২৪.৫ ওভারে ১৫৫ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। উল্টো নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার দেখল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ম্যাচ হেরেছে তারা ২৭৬ রানে।
রানের দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া পেয়েছে সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০০৯ সালে ডারবানে ১৪১ রানে জেতা ম্যাচটি ছিল সর্বোচ্চ রান ব্যবধানের জয়। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়। ২০২৩ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ৩০৯ রানে হারিয়েছিল অজিরা। ওয়ানডে ক্রিকেট ষষ্ঠতম রান ব্যবধানের জয়।
ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার এটি। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হেরেছিল ২৪৩ রানে। এবার সেটি ছাড়িয়ে নতুন হারের রেকর্ড গড়ল প্রোটিয়ারা।
সিরিজ আগেই হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ম্যাচে হারানোর তেমন কিছু ছিল না। যদি পাওয়ার কিছু থাকে, সেটি ধবলধোলাই এড়ানো। এই ম্যাচকে আজ ব্যর্থতার দায়মুক্তি হিসেবেই যেন বেছে নিলেন হেড-গ্রিনরা।
ম্যাকায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে; শেষ ওয়ানডেকে রীতিমতো রেকর্ড বন্যায় ভাসালেন। অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ তিন ব্যাটার দেখা পেয়েছেন সেঞ্চুরির- ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শের পর ক্যামেরন গ্রিন। যার সৌজন্যে আগে ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া তোলে ২ উইকেটে ৪৩১ রান।
৪৩২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই উইকটে হারাতে থাকে প্রোটিয়ারা। ছয় ব্যাটার দুই অঙ্কের পৌঁছাতে পারেননি। সর্বোচ্চ ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ২৬ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৪৯ রান করেন। অজি বোলারদের মধ্যে কুপার কনোলি ২২ রান দিয়ে ওয়ানডতে প্রথমবার শিকার করেছেন ৫ উইকেট।
তার আগে ধবলধোলাই এড়ানোর মিশনে একসঙ্গে জ্বলে উঠলেন অস্ট্রেলিয়ার সব ব্যাটার। উদ্বোধনী জুটিতে হেড-মার্শ গড়েছেন ২৫০ রানের অসাধারণ এক জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যেকোনো উইকটে অস্ট্রেলিয়ার এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি। সব দল মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০৩ বলে ১৪২ রান করেছেন হেড, মার্শের ব্যাট থেকে এসেছে ১০৬ বলে ১০০ রান। আর শেষ দিকে তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ৫৫ বলে ১১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন গ্রিন। আরেক অপরাজিত ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারির সংগ্রহ ৩৭ বলে ৫০ রান। অজিদের স্কোরে জমা হয় ৪৩১ রান।
ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ৪ উইকেটে ৪৩৪ রান করেছিল তারা। সেই ম্যাচটি অবশ্য অবিশ্বাস্যভাবে ১ বল বাকি থাকতে ১ উইকেটে জিতে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার সেরকম কিছু ঘটতে দেননি অজি বোলাররা। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল প্রোটিয়ারা। একই ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে অস্ট্রেলিয়া।
আপনার মতামত লিখুন :