
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে অবশেষে নতুন সি-ট্রাক চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ আসর মিলাদ ও দোয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। সি-ট্রাকটি প্রতিদিন নলচিরা ঘাট থেকে চেয়ারম্যান ঘাট রুটে চলাচল করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক খোকনসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এরপর শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে সি-ট্রাকটি নিয়মিত চলাচল শুরু করে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সঞ্চার হয়। দ্বীপবাসীর প্রধান ভরসা নৌপথ হলেও পর্যাপ্ত নৌযান না থাকায় তারা দীর্ঘদিন নানা ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিল। বিশেষ করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও জরুরি প্রয়োজনে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া দিতে হতো।
নতুন সি-ট্রাক চালু হওয়ায় এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দ্বীপবাসী। স্থানীয়রা জানান, এ উদ্যোগে যাতায়াত হবে সহজ, নিরাপদ এবং স্বল্প খরচে। এতে দ্বীপের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ সি-ট্রাকটিতে একসঙ্গে ২২০ জন যাত্রী বহনের ব্যবস্থা রয়েছে। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রসহ সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আসন ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে।
সি-ট্রাকের পরিচালক ও হরনী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক জুয়েল বলেন, “হাতিয়ার জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে অবশেষে নতুন সি-ট্রাক চালু হওয়ায় আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করছি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে যাতায়াত সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে।
আরেক পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিন বলেন, “নতুন সি-ট্রাক চালুর খবরে দ্বীপজুড়ে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় হাতিয়ার নৌপথ আরও সমৃদ্ধ হবে এবং যাত্রীসেবার ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।”
হাতিয়ার মানুষ এখন আশা করছে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ টেকসইভাবে বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।
আপনার মতামত লিখুন :