
রাত পোহালেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ খ্যাত ডাকসু নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে তরুণরা। ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভোটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও আবাসিক হল সংসদগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও প্যানেলগুলোর নির্বাচনী প্রচারাভিযান শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। এই ভোটাভুটির ফল কী হবে তা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। তবে সার্বিক চিত্র বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, এককভাবে কোনো প্যানেল জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদে ভোট দিতে, ভোটারকে পড়তে হবে চ্যালেঞ্জের মুখে। ৪১ জন প্রার্থী বাছাই করতে সময় থাকবে মাত্র ১০ মিনিট। অর্থাৎ পছন্দের প্রার্থীকে খুঁজে সিল মারতে গড়ে ১৫ সেকেন্ডেরও কম সময় পাবেন ভোটাররা। তাই বুথের চেয়ে কেন্দ্র বাড়ানোর দাবি করছেন প্রার্থীরা।
দীর্ঘ ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে জাতি। ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী। ভোটার মোট ৩৯ হাজার ৮০৪ জনের বেশি। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ৪৭০। এছাড়া ১৮টি হল সংসদের ১৩টি পদে প্রার্থী ১ হাজার ৩৫ জন।
প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৮টি কেন্দ্র। কার্জন হল, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব, সিনেট ভবন, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভূতত্ত্ব বিভাগ ও ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি কলেজ এসব কেন্দ্রে হল সংসদের জন্য ২৪টি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য ৫৬টি ভোট বাক্স বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রার্থীদের দাবি ও ভোটাররা যাতে স্বাচ্ছন্দে ভোট প্রয়োগ করতে পাবে সেজন্য বুথের সংখ্যা ৭১০ থেকে বাড়িয়ে ৮১০টি করা হয়েছে।
৮টি কেন্দ্রে টেবিল বসানো হবে ১৩০টি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯টি টেবিল ও ১১৭টি বুথ করা হয়েছে ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র্ইে যেখানে শুধুমাত্র রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারবেন।
ডাকসু নির্বাচন কমিশন মনে করছে, ৮টি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়বে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইনে থাকা সবাই ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে।
ভোটাররা নির্বাচনে তাদের পে স্লিপ, হল কার্ড, ডিপার্টমেন্টের কার্ড কিংবা লাইব্রেরি কার্ড দেখিয়ে ভোট দিতে পারবেন। ৬ টি ও এমআরসিটে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই করবেন। দুই মেশিনে তার গণনা করা হবে বলেও জানান চিফ রিটানিং কর্মকর্তা।
ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৯ সেপ্টেম্বর। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।
আপনার মতামত লিখুন :