
উপজেলার প্রতিনিধি, সদর : সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় আবদুল কাদের নামের এক ইটভাটার মাঝির বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সামছুন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, তার স্বামী আবদুল কাদের একজন ইটভাটার মাঝি। তিনি সিজোনাল লেবার সংগ্রহ করতে পাশ্ববর্তী পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের সেকান্তর মিয়ার ছেলে আবু ছায়েদকে অগ্রিম ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আবু ছায়েদ অঙ্গীকার মোতাবেক কোন লেবার সরবরাহ না করে প্রতারণার আশ্রয় নেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের ওই নারী বলেন, তার স্বামী চুক্তি মোতাবেক ইটভাটায় লেবার সরবরাহ করতে আবু ছায়েদকে লেবারের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন, না হয় তাদের পাওনা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত চান। কিন্তু আবু ছায়েদ লেবার ও টাকা কিছুই দিবেন না বলে তার স্বামীকে জানালে তাদের মধ্যে বাক-বিতর্ক হয়। এই নিয়ে গত ০৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আবু ছায়েদ, তার ছেলে নাইম হোসেন, বিজয়, ভাই আব্দুজ জাহের’সহ একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এসময় সন্ত্রাসীদের বাঁধা দিতে গেলে তারা রনি ও আবদুল কাদেরকে পিটিয়ে আহত করে। পরে সন্ত্রাসীরা তাদের ঘরে ঢুকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৮ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন’সহ ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আবদুল কাদেরের স্ত্রী সামছুন নাহার বলেন, এই ঘটনায় গত ০৫ সেপ্টেম্বর সুধারাম মডেল থানায় তিনি বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু অভিযোগ করার পর আসামীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন। তারা অভিযোগ তুলে নিতে বার বার হুমকি দিচ্ছেন। প্রশাসনের নিকট ন্যায় বিচার প্রার্থনা’সহ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের এই সদস্য।
সুধরাম মডেল থানার এসআই সাইমা সুলতানা জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আমি রিপোর্ট প্রদান করেছি। বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :