
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া: হাতিয়ায় সালিশের নামে নিরীহ এক পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ সাহেদ উদ্দিন। তিনি জানান, তাঁর ছোট ভাই পল্লী চিকিৎসক মোঃ নাহিদ উদ্দিনকে জড়িয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মিথ্যা প্রেমের ঘটনা সাজায়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোঃ সোহেল, প্রজেক্ট ফারুক, বড় আমির, সুমন, কাদের আশ্রাফ, নিশান, রুবেল, রবিন, মাইনুউদ্দিন, জামসেদ ও বাবলুসহ কয়েকজন ব্যক্তি শালিশের নামে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের পরিবারকে ডেকে নেয়।
সাহেদ উদ্দিনের অভিযোগ, সালিশের আসরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের অমানবিকভাবে মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে কথিত এক তরুণীকে জোরপূর্বক তাঁদের বাড়িতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগ হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তাঁদের পরিবারের মানসম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পল্লী চিকিৎসক নাহিদ উদ্দিনের সঙ্গে ঐ তরুণীর কোনো সম্পর্ক নেই। প্রভাবশালী মহল পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই নাটক সাজিয়েছে।
সাহেদ উদ্দিন আরও বলেন, “এটি কোনো সামাজিক সালিশ নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত নির্যাতন। ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে আমাদের পরিবারকে জিম্মি করা হয়েছে।”
এ সময় তিনি জানান, বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্থানীয় হাসান মাঝি, তবে পরে আর তা বাস্তবায়ন হয়নি। শেষ পর্যন্ত আইনি প্রতিকার চাইতে এডভোকেট সাদ্দামের শরণাপন্ন হন তাঁরা। আদালতে উভয় পক্ষের সমঝোতার জন্য তারিখ নির্ধারণ হলেও প্রতিপক্ষ উপস্থিত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. নিজাম উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম, পারভেজ, হকসাব, কামরুল, দিদার উদ্দিনসহ ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :