
দুবার পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তারপরও টাইব্রেকারে হারের ক্ষত নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় গোলাম রব্বানী ছোটনের দলকে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশকে আরও একবার হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত।
গতকাল কলোম্বোর রেসকোর্স স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে ভারতের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকে শুরু করেন নাজমুল হুদা ফয়সালরা। গোলের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের রক্ষণে একের পর এক ভীতি ছড়ায়। গোল পেতে পেতেও বেশ কয়েকবার পাননি ফয়সাল-মানিকরা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশকে ২-২ গোলে সমতায় ফেরান ইহসান হাবিব রিদুয়ান।
ম্যাচে হয়ত বাংলাদেশ আরও আগেই সমতায় ফিরতে পারত। কে জানে নির্ধারিত সময়ের ১০-১৫ মিনিট আগে সমতায় ফিরলে দৃশ্যপট কেমন হতো। হয়তো ভিন্ন কোনো গল্পও লেখা হতো। এ জন্য রেফারিকেও দুষছেন কেউ কেউ। রেফারিং মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনও।
নির্ধারিত সময়ের শেষ ১০ মিনিটে দুটি পেনাল্টির আবেদন করে বাংলাদেশ। একটি তো বক্সে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের হাতে বল লাগে, বাংলাদেশের আবেদনে কোনো কর্ণপাতই করেননি রেফারি। খেলার ৯০ মিনিটের সময় দেখা যায় কর্নার থেকে মানিকের হেড লক্ষ্যেই ছিল, গোলমুখের সামনে ভারতের ডিফেন্ডার আজিম পারভিজের হাতে লাগে। সেটা হাতে না লাগলে গোলও হতে পারত। রেফারি সিদ্ধান্তটি পুনরায় বিবেচনায় নেওয়া যেত বলেই মনে করছেন অনেকে।
ম্যাচ শেষে গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শুরু থেকেই রেফারির সিদ্ধান্ত আমার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে। তার কিছু কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ছেলেদের খেলা থেকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে। এ রকম একটা ফাইনাল খেলায় আরও ভালো রেফারি এবং পরিচ্ছন্ন হওয়া উচিত।’
ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বাংলাদেশের ইহসান হাবিব রিদুয়ান। রেফারি নিয়ে মাঠেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ম্যাচ শেষেও হতাশা লুকাননি, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটা (শিরোপা) হয়তো আমাদের রিজিকে লেখা ছিল না তাই পাইনি। আমার মতে এ রকম একটা টুর্নামেন্টে আরও ভালো রেফারি প্রত্যাশা করি।’
এই ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। হার না মানার মানসিকতা দেখিয়েছে। ম্যাচ শেষে কোচ গোলাম রব্বানীর কণ্ঠেও ছিল শিষ্যদের প্রশংসা, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ভালো ফুটবল খেলা। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের বাজিয়ে নেওয়া, ফাইনাল খেলার চাপ কতটা নিতে পারে সেসব দেখা, সেখানে ওরা শুরু থেকেই ভাল ফুটবল খেলে। ওরা এখনও তরুণ, ছোট ছোট ভুল ছিল যে কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ি। তারপরও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ওরা খেলায় ফিরে আসে, এমনকি ২-১ গোলে আরেকবার পিছিয়ে পড়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরে। মনে এই টুর্নামেন্টে ছেলেরা সব মিলিয়ে ভালো ফুটবল খেলেছে।’
উন্নতির ধারা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একদিন ফয়সালদের হাত ধরেই বড় সাফল্য আসবে বলে মনে করেন ছোটন। রিদুয়ানরাও আপাতত চোখ রাখেছেন এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে।
২০২৩ সালে ভুটানে হওয়া অনূর্ধ্ব-১৬ সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে ২-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। পরের বছর অনূর্ধ্ব-১৭ সাফের আসর বসে ভুটানে। সেবারের ফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে যায় তারা। সেই ভারতের বিপক্ষে আরও একটি ফাইনালে হার দেখল বাংলাদেশ।
আপনার মতামত লিখুন :