
২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে তৃতীয় বিভাগ বাছাইপর্ব থেকে অনিয়মের মাধ্যমে এন্ট্রি করে প্রমোশন পাওয়া ক্লাবগুলোর মধ্যে যে ১৫টি এখনো সিসিডিএম-এর তালিকাভুক্ত হিসেবে টিকে আছে, বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে ওই ক্লাবগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন বিসিবির তিন পরিচালক। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের রিপোর্টে অভিযুক্ত এই ১৫টি ক্লাবের ভোট ব্যাংক ব্যবহার করে সুযোগ সন্ধানীরা ক্যাটাগরি-২ এ ১২টি পদের সব ক’টিতে জয়ের অপকৌশল প্রয়োগে নিজেদের পছন্দমতো একটা প্যানেলও ঠিক করে রেখেছিলেন।
এমন অপকৌশলে ক্যাটাগরি-২ তে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বাধাগ্রস্থ হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়ায় যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহামুদ সজীব ভূঁইয়া সকল পক্ষকে এক করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তামিম ইকবালের হাতে নেতৃত্ব দিয়ে ৯ জনের সঙ্গে বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদসহ তিন জনকে নিয়ে সমঝোতার প্যানেল তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তিনি। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার এই উদ্যোগকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন তামিম-ফাহিম সিনহা-রফিকুল ইসলাম বাবু-ইফতেখার রহমান মিঠু-মাসুদুজ্জামানরা। তবে যুবও ক্রীড়া উপদেস্টাকে কথা দিয়েও শেষ পর্যন্ত কথা রাখেননি ফারুক বিরোধীরা। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের রিপোর্টে অভিযুক্ত ১৫ ক্লাবের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় উপদেষ্টার উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফারুকসহ ৩ জনকে নির্বাচনযুদ্ধে পরাজিত করার ছঁক এঁকেছিলেন ফারুক বিরোধীরা।
সোমবার রাতে দীর্ঘ আলোচনায় সমঝোতার উদ্যোগ ভেঙ্গে যাওয়ায় স্ব স্ব অবস্থানে অনঢ় দুটি পক্ষকে যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্যাটাগরি-২-তে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বললে তামিম ইকবাল ভার্সেস ফাহিম সিনহা প্যানেল প্রকাশ্য হয়ে যায়। নির্বাচনযুদ্ধে প্যানেলের বাইরে রাখতে যে ফারুককে বাদ দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন ফাহিম সিনহা এবং তার সমর্থকরা, সেই ফারুক আহমেদের হাতে এখন ক্যাটাগরি-২ এর নির্বাচনের ব্যাটন! পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন ফারুক আহমেদই ট্র্যাম্প কার্ড।
মঙ্গলবার ফারুক আহমেদের রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযুক্ত ১৫টি ক্লাবের ভোটাধিকার স্থগিত হওয়ায় কার্যত ক্ষতি হয়েছে ফাহিম সিনহা সমর্থিতদের। ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমীর কাউন্সিলরশিপ ফিরে পেয়ে ফাহিম সিনহা প্যানেলের হয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বিসিবির বর্তমান পরিচালক এবং মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু। তবে নির্বাচনে প্রার্থীতা দূরে থাক, আদালতের আদেশে ১৫টি ক্লাবের ভোটাধিকার স্থগিত হওয়ায় ভোট দিতে পারবেন না মিঠু।
হাইকোর্টের আদেশে ক্যাটাগরি-২ তে ( ঢাকার ক্লাব কোটা) ৭৬ টির পরিবর্তে ৬১টি ভোট নেমে আসায় লাভ হয়েছে তামিম-ফারুক-ইশতিয়াকদের। নির্বাচনে জয়ী হতে দরকার ৩১টি ভোট। তার মধ্যে এই প্যানেল ইতোমধ্যে ২৯টি ভোট নিশ্চিত করেছে। এর সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনিচ্ছুক ভোটারদের একটা অংশের সমর্থন তো থাকছেই।
ইতোমধ্যে এই প্যানেল ৭ প্রার্থী ঠিক করে রেখেছে। তামিমের নেতৃত্বাধীন এই প্যানেলে আছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ, ইশতিয়াক সাদেক, সানিয়ান তানিম, আদনান রহমান দীপন, আমজাদ হোসেন এবং মোকসেদ আলম বাবু। প্যানেলের বাকি ৫ জন বুধবার ঠিক হবে। এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা দেখে তামিম-ফারুক পরিষদ প্যানেল ঘোষণা করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :