• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২ অক্টোবর, ২০২৫

দেবী বিদায়ে অশ্রুজল

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা  মধ্যে দিয়ে, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দমুখর দিনগুলো শেষ হলো বিদায়ের সুরে। মা দুর্গাকে অশ্রুজলে বিদায় জানালেন ভক্তরা। চার দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেবীর প্রতিমা নদী ও পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিসর্জনস্থলে ছিল ঢাক-ঢোলের বাদ্য, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনির অপূর্ব মেলবন্ধন। সিঁদুর খেলা শেষে ভক্তরা চোখের জলে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানান। ‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা।

ভক্তরা জানান, দেবী দুর্গা শুধু একটি ধর্মীয় প্রতীক নন, তিনি শক্তি, সাহস ও ন্যায়ের প্রতীক। তাই বিসর্জনের সময় চোখ ভিজে যায় আবেগে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ, সবাই সমবেত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রার্থনা করেন, আগামী বছর আবার নতুন আনন্দ নিয়ে দেবী আসবেন।
হাতিয়ায় এ বছর প্রায় ৩৩টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা। তবে বিদায়ের দিন সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, দুর্গোৎসব এখন শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক-সাংস্কৃতিক এক মহোৎসব।

বিদায় শেষে নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে গেল প্রতিমা, আর ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে গেল অশ্রুজল ও ভালোবাসার স্মৃতি।
শ্রী শ্রী পৌরসভা মাষ্টার পাড়া কালি মন্দিরে তাপস চন্দ্র দাস  জানান, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতা ছিল অনন্য। প্রতিটি মণ্ডপে ছিল উৎসবের আমেজ, তবে বিদায়ের মুহূর্তে ছিল বেদনার ছোঁয়া।

হাতিয়া নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের লেফটেন্যান্ট শোয়েব রাফছান বলেন, “হাতিয়া সহ সারা বাংলা দেশে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নৌবাহিনী,কোস্টগার্ড,পুলিশ, আনছার বিডিপি, গ্রামপুলিশ মাঠে কাজ করছে। পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসবমুখর পরিবেশ উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি নৌবাহিনীও মাঠপর্যায়ে টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিশেষ করে পূজামণ্ডপ এলাকায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, যাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই স্বস্তিতে উৎসব উদযাপন করতে পারেন।

স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, নৌবাহিনী ও প্রশাসনের আশ্বাসে তারা শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

আরও পড়ুন